• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

সাদিক কায়েমকে সতর্ক করে রফিকুল ইসলাম মাদানীর ফেসবুক পোস্ট


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩৭ পিএম;
সাদিক কায়েমকে সতর্ক করে রফিকুল ইসলাম মাদানীর ফেসবুক পোস্ট

ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের জয়কে একটা সময় নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে এবার তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

স্ট্যাটাসে মাদানী লিখেন, অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলাম ডাকসুতে সাদিক কায়িম জয়ী হওয়ার পরে। সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে চেয়েছিলাম। চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন। কারণ একটাই—এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার; জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হইছে। তাই এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয়—আর সে কারণেই খুশি হয়েছিলাম।

সাদিক কায়িম, এস এম ফরহাদরা অনেক কাজ করেছে—এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট জানিয়ে এই ইসলামি বক্তা বলেন, সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা—এসব অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা তো মুসলিম, আমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সাপোর্ট করতে পারি? নাকি দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধার চেয়েও আমাদের কাছে আল্লাহর বিধান বড়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ইসলামিক জায়গা নয়, সব মেয়েও পর্দা করে না—তাহলে তারা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিষয়টা শুধুমাত্র খেলার নয়, বিষয়টা হলো শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা। আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।

কারণ সাদিক কায়িমকে অনেক মেয়েরা ফলো করে, নেতা মনে করে উল্লেখ করে মাদানী বলেন, তারা যখন দেখে সাদিক কায়িম শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ অনেক হুজুরের সঙ্গে প্রোগ্রামে দেখা যায় এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সাপোর্ট করেন—তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করবে, উনি যা করছেন সেটা মনে হয় সঠিক। মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলে মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই, তখন সেই সরলমনা মেয়েগুলো ইসলামকে কী ভাববে? তারা তো মনে করবে এগুলো সব জায়েজ!

তাই আমি যে শায়েখদের নাম নিলাম, আপনাদের বলব—প্লিজ, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলুন জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ যেসব মেয়েরা সাদিক কায়িমকে ফলো করে, তাদের কাছে আমাদের হুজুরদের আওয়াজও পৌঁছে না। তাই আপনারা এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরুন যাতে সাদিক কায়িমসহ সকলেই সতর্ক হতে পারে!

মাদানী বলেন, বিষয়টা শুধুমাত্র উন্নয়নের না, উন্নয়ন কিন্তু হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক করছিল। আমরা শুধু উন্নয়ন দেখিনি; তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ আমাদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট কথা—এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয় ভাবে সেই ক্ষমতা যদি এসেও যায় সেটা ইসলামের পক্ষের হবে না, ফায়দাও হবে না। আর তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে আমাদের স্পষ্ট অবস্থানও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টে প্রায় আড়াই হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে।
 

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন