বোয়ালমারীতে গ্রামীণ ঐতিহ্যের রোমাঞ্চকর আয়োজন: ভেলাবাইচ, সাঁতারে মাতল কান্দাকুল-ইছাখালী
উচ্ছ্বসিত হাজারো জনতা, দর্শনার্থীদের করতালিতে মুখরিত জলাশয়ের দুই পাড়
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া রূপ ও ঐতিহ্যকে নবপ্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে তুলতে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অনুষ্ঠিত হলো এক জমজমাট ও বর্ণিল লোকজ ক্রীড়া উৎসব। ঐতিহ্যবাহী ভেলাবাইচ, সাঁতার কাটা ও পিচ্ছিল কলাগাছ বাওয়া প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে পুরো কান্দাকুল-ইছাখালী এলাকায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলার ময়না ইউনিয়নের কান্দাকুল-ইছাখালী সংলগ্ন জলাশয়ে এ উৎসবমুখর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দুপুর গড়াতেই নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী হাজারো মানুষের ঢল নামে। প্রতিযোগী ও দর্শনার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
জলাশয়ের বুকে দ্রুতবেগে ভেলা ছুটিয়ে চালকদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সাঁতারুদের ক্ষিপ্রতা এবং পিচ্ছিল কলাগাছ বেয়ে ওপরে ওঠার রোমাঞ্চকর চেষ্টা দেখতে জলাশয়ের দুই পাড়ে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। প্রতিযোগীদের প্রতিটি নিখুঁত দক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের মুহুর্মুহু করতালি ও করতাল ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ময়না ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মো. রবিউল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়না ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. কাজলী বেগম, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য সদস্য পদপ্রার্থী মো. রাশেদ শেখ, মো. খায়ের মাতুব্বরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী।
আয়োজনের উদ্দেশ্য ও অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক মো. রবিউল ইসলাম বলেন, "গ্রামবাংলার চিরায়ত খেলাধুলা আমাদের শেকড় ও ঐতিহ্যের স্মারক। আধুনিক প্রযুক্তির জয়জয়কারে এসব লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের লক্ষ্য তরুণ ও নতুন প্রজন্মের সামনে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরা। গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে মানুষ আজও নিজের শেকড়কে ভালোবাসে। ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই রূপসী বাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ জাতীয় লোকজ উৎসব কেবল বিনোদনই জোগায় না, বরং সমাজ থেকে হানাহানি দূর করে মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সোহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। স্থানীয়দের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষায় নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: