তিন মন্ত্রীর সুপারিশে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় পদায়ন, আলোচনায় জাহানারা
এবার তিন মন্ত্রীর সুপারিশে ভঙ্গ করা হলো সরকারি বদলি বা পদায়ন নীতিমালা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলিতে এই নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
গত ২ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ বদলি ও পদায়ন সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে বলেছিল, “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাকে তার নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন করা যাবে না।”
কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপন জারির মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই তার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) জাহানারা পারভীনকে তার নিজ জেলা টাঙ্গাইলে গত ১৬ জুলাই নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বদলিতে তিন মন্ত্রীর সুপারিশ নিয়ে এলজিইডিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে নানান আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষ করে মঙ্গলবারও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দিনভর নানা আলোচনা ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও এলজিইডি ভবনে। অনেকের প্রশ্ন প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এতো ক্ষমতাধর?
গণমাধ্যমের খবরের বলা হয়েছে, এই বদলিতে নীতিমালা লঙ্ঘনের নেপথ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং টাঙ্গাইলের আরেক মন্ত্রীর সুপারিশ রয়েছে।
সরকারি নথি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাহানারা পারভীনের স্থায়ী ঠিকানা টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলা। শুধু তাই নয়, তার স্বামী শামছুল বারীর নিজ জেলাও টাঙ্গাইল। ফলে তিনি একই সঙ্গে নিজের জেলা এবং স্বামীর নিজ জেলায় পদায়ন পেয়েছেন। তাদের দুজনের গ্রামের বাড়িই মধুপুর উপজেলায়। ওই আসনের এমপি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
এ বিষয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন বলেন, "এলজিআরডি মন্ত্রীর পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং টাঙ্গাইলের আরেক মন্ত্রীর সুপারিশে এ বদলি করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের দুইমন্ত্রী আমার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে বুঝিয়েছেন জাহানারাকে টাঙ্গাইলে পোস্টিং দিতে। আমি শুধু নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছি।”
তিনি বলেন, "এলজিআরডি মন্ত্রী জেলা পর্যায়ে একজন নারী কর্মকর্তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সেই জায়গা থেকে জাহানারা পারভীনের নাম উঠে এসেছিল। মাঠ পর্যায়ে কোন নারী নির্বাহী প্রকৌশলী নেই বলেও দাবি তার।”
তবে এই বদলির মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সাধারণত নিজ জেলায় বদলি হতে পারবে নিয়ম না থাকলেও একাধিক মন্ত্রী বিষয়টি চাওয়ায় এক্ষেত্রে আসলে বিষয়টি ভিন্ন ব্যাপার।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তারা ফোন সিসিভ করেননি। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা কোনো সাড়া দেননি।
তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব শরিফুল ইসলাম বলেন, "মন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। এ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।"
অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, "আমি হলফ করে বলতে পারি, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার মন্ত্রণালয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।"
নীতিমালা কার্যকরের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজ জেলায় একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়নের ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহানারা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। এখন প্রশ্ন সরকারের ঘোষিত বদলি নীতিমালা কি সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, নাকি প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম।
দৈনিক পুনরুত্থান /
- বিষয়:
- জেলায় পদায়ন
- আলোচনায় জাহানারা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: