• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

পঞ্চগড় ​মহারাজা দিঘীতে চাঞ্চল্যকর যুবক হত্যার রহস্য উদঘাটন, বড় বোন আটক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫১ পিএম;
পঞ্চগড় ​মহারাজা দিঘীতে চাঞ্চল্যকর যুবক হত্যার রহস্য উদঘাটন, বড় বোন আটক

পঞ্চগড়ের ঐতিহাসিক মহারাজা দিঘী থেকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধারকৃত যুবক মানিক হোসেন (১৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মানিকের বড় বোন সমলাকে আটক করেছে পুলিশ।  নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িত তার আপন বড় বোন মোছাঃ সমলা আক্তার (২৪)-কে ব্ল্যাকমেইল ও নিয়মিত ধর্ষণের প্রতিশোধ নিতে এবং প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে তিনি স্বামীর সাথে পরিকল্পনা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সমলা।

গত ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ১২.৩০ ঘটিকায় পঞ্চগড় সদর থানার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় গ্রামের মহারাজা দিঘীর পানিতে ভেসে থাকা অবস্থায় অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে জানা যায়, মৃত যুবকের নাম মোঃ মানিক হোসেন (১৯), তিনি পঞ্চগড় মালাদাম এলাকার রইস উদ্দীনের ছেলে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং মৃতের বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঘটনার তদন্ত শুরু করে। লাশ উদ্ধারের সময় মৃতের প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট পাওয়া যায়। তদন্তের একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ মৃতের বড় বোন সমলা আক্তারের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে চিরকুটের লেখার সাথে হুবহু মিল থাকা একটি ক্যালেন্ডার জব্দ করে। এরপর সমলাকে হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর কাহিনী।

জিজ্ঞাসাবাদে সমলা জানান, মানিক তার আপন ছোট ভাই। সমলার এটি তৃতীয় বিয়ে ছিল এবং তার স্বামীই তার ভরণপোষণ করতেন। কিন্তু গত ৩-৪ মাস পূর্বে মানিক তার বড় বোন সমলাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে সেই ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে সমলা শারীরিক সম্পর্কে অস্বীকৃতি জানালে, মানিক ভিডিওটি তার স্বামীর কাছে পাঠিয়ে সুখের সংসার ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করতে থাকে। লোকলজ্জার ভয়ে সমলা বিষয়টি কাউকে বলতে না পারলেও একপর্যায়ে তার স্বামীকে বিস্তারিত জানান।

গত ১২ জুলাই প্রতিবেশীদের সাথে সমলার পরিবারের একটি ঝগড়া হয়। এই সুযোগে প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন সমলা।
 ১৩ জুলাই সকালে সমলা কৌশলে মানিককে মহারাজা দিঘীতে বেড়াতে নিয়ে যান।ঐদিন রাতে একটি হোটেলে খাওয়ার সময় সমলা কৌশলে মানিকের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। মানিক অচেতন হয়ে পড়লে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি দিঘীর পানিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং প্রতিবেশীদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে লিখে আনা চিরকুটটি মানিকের কোমরে গুঁজে দেওয়া হয়। রাত ০১:০০ টায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সমলা রাস্তায় খুনির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এরপর খুনি এসে মানিককে হত্যা করে লাশ দিঘীর পানিতে ফেলে দেয়। কাজ শেষে সমলা ও খুনি রাতে বাড়ি ফিরে আসেন। পুলিশ মামলার তদন্তকালে মানিকের কোমরে থাকা চিরকুটের হুবহু লেখা (ক্যালেন্ডার) এবং মানিকের ব্যবহৃত দ্বিতীয় বাটন ফোনটি উদ্ধার করেছে। গ্রেফতারকৃত সমলা আক্তারকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পঞ্চগড় প্রতিনিধি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন