নির্মম হত্যাকাণ্ড: মোহাম্মদপুর কি ঢাকার ‘সিটি অব গড’
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। শহরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় শিল্পকারখানা, গণপরিবহণ ও নির্মাণাধীন ভবন-সবখানেই জেঁকে বসেছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। চাঁদার টাকা না পেয়ে হামলার অসংখ্য ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। এতে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ।
এসব চাঁদাবাজ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা হালনাগাদ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। সম্প্রতি চাঁদাবাজদের নিয়ে র্যাবের তৈরি করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে চাঁদাবাজদের গডফাদার রয়েছে ৬৫০ জন। তবে রহস্যজনক কারণে তাদের গ্রেফতারে নেই কোনো জোরালো পদক্ষেপ।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং, রাজনৈতিক আশ্রয় আর বিচারহীনতার চক্রে মোহাম্মদপুর অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণকে ধাওয়া করছে প্রতিপক্ষ। দৌড়াতে গিয়ে ওই তরুণ একটি দোকানের সামনে পড়ে যান। এরপর ঘিরে ধরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। একপর্যায়ে তরুণের বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনাটি ১২ এপ্রিলের। পরে জানা যায়, ওই তরুণ মারা গেছেন। তাঁর নাম ইমন হোসেন। অপরাধজগতে জড়িয়ে নাম ধারণ করেছেন ‘অ্যালেন ইমন’। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের দল ‘অ্যালেন গ্রুপের’ প্রধান। তিনি ওই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সহযোগী। পুলিশ বলছে, ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ১৮টি মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, এসব মামলায় তাঁর বিচার হয়নি, শাস্তি হয়নি। তিনি নিহত হয়েছেন প্রতিপক্ষের হামলায়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মো. মঈন উদ্দিন। ৫ই আগস্টের পর নিজেকে শেরেবাংলা নগর যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করেন। এরপর শ্যামলী-শেরেবাংলা নগর এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে গড়ে তোলেন আলাদা বাহিনী। তার দলে ভেড়ান তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর আশীর্বাদপুষ্ট ক্যাডারদের। এই ক্যাডারদের দিয়েই এলাকার প্রায় ৬০টি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রতি মাসে চাঁদা তোলেন মঈন। এই বাহিনীকে চাঁদা না দিয়ে শুধু হাসপাতাল নয় আবাসিক হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত কেউই চালাতে পারে না। তার হাত থেকে রেহাই পাইনি মসজিদ-মাদ্রাসাও। তার অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় কেউ ভবন ভাঙতেও পারে না, গড়তেও পারে না।
পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। সম্প্রতি আলোচিত কিডনি চিকিৎসক প্রফেসর কামরুল ইসলামের মালিকানাধীন শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা চাইতে গিয়ে আলোচনায় আসেন মঈন। মঈন ও তার বাহিনীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও ওই এলাকায় চাঁদাবাজি থেমে নেই। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের খাবার থেকে শুরু করে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সাপ্লাই, অবকাঠামো উন্নয়ন, নির্মাণ কাজের টেন্ডার (ঠিকাদারি), এ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটসহ পুরো শেরে বাংলা নগর ও শ্যামলী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্রিয় আরও বেশ কয়েকটি চক্র। ওই এলাকার ফুটপাত, আবাসিক হোটেল এমনকি এলজিডি ও গণপূর্তের এক্সচেঞ্জ অফিসও তাদের নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই বোরো। এই ধান কাটার মৌসুম মানেই গ্রামবাংলায় উৎসবের আমেজ। তবে এবার উৎসবের বদলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষক। বিভিন্ন অঞ্চলে আংশিকভাবে ধান কাটাও শুরু হয়েছে। এই সময়ে কৃষকের সামনে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি ও কৃষিযন্ত্র সংকট। সেচ মৌসুমে জ্বালানি সংকট সামাল না দিতেই এখন ফসল কাটা, মাড়াই ও পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
মাঠ পর্যায়ের কৃষক, কৃষিযন্ত্র মালিক, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াই জ্বালানিনির্ভর। জমিতে সেচ দেয়া থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই, পরিবহন ও বাজারজাত-সবকিছুতেই ডিজেল অপরিহার্য। ফলে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচ ও ফসল ঘরে তোলার ওপর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করা জনজীবনে বৃষ্টির আগমন সাধারণ স্বস্তির বার্তা আনে। এখন সেই বৃষ্টি যেন উল্টো আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। তাপদাহের পর শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে দেশজুড়ে বাড়ছে বজ্রপাতের তীব্রতা। তাতেই ঝরে যাচ্ছে প্রাণ।
গতকাল শনিবার এক দিনেই দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১২ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কৃষক। যারা জীবিকার তাগিদে খোলা মাঠে ছিলেন, আর সেখানেই প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বজ্রপাত। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে। জেলার চারটি উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজন মারা গেছেন। দুপুরের দিকে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এই সময়টা সবচেয়ে ব্যস্ত মৌসুম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশন বা মোট স্থায়ী মূলধন গঠন জিডিপির ৩০ থেকে ৩২ শতাংশে ওঠানামা করছে। যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে তুলনা করলে অনুপাতটি চলনসই। কিন্তু বাংলাদেশে এ স্থায়ী মূলধনের বড় অংশই অনুৎপাদনশীল কিংবা অপব্যয় হয়েছে।
অর্থনীতিতে এ স্থায়ী বিনিয়োগের বড় অংশ কোনো ভূমিকা রাখছে না। এর মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ বা অবকাঠামো যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বেসরকারি উদ্যোগও। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশের গ্রস ফিক্সড ক্যাপিটাল ফরমেশনের (জিএফসিএফ) আকার ছিল ১৩৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। জিএফসিএফ বা মোট স্থায়ী মূলধন গঠন হলো জাতীয় পরিসরে নিট বিনিয়োগের ধারণা, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে অ-আর্থিক সম্পদে ব্যয় পরিমাপ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যুর মিছিলের মূল কারণ কী? এটা কি শুধুই টিকার ঘাটতি? নাকি এর সঙ্গে আরো কিছু?
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিশেষ ক্ষমতা’র একচেটিয়া সিদ্ধান্তের বলি হচ্ছে শিশুরা। এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানের স্বাস্থ্য খাতে ‘বিশেষ’ ক্ষমতা ও একচেটিয়া আধিপত্য। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের ধারাবাহিক বৈঠকগুলোর অধিকাংশতেই তিনি সভাপতিত্ব করেন। ওপি বাতিল ও সেক্টর প্রোগ্রাম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তিনিই সবচেয়ে জোরালোভাবে ধাক্কা দিয়েছিলেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: