বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় শিক্ষার্থী
পিরোজপুরের জিয়ানগরে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় অবস্থান নিয়েছে এক শিক্ষার্থী। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিয়ে ঠেকাতে ওই শিক্ষার্থী জিয়ানগর থানায় দুই দফায় হাজির হয়।
ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানায়, সে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। সে লেখাপড়া করুক, শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক।
সে বাল্যবিবাহের শিকার হোক, সেটা আমরা কেউ চাই না।
প্রতিবেশী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুনেছি অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে মেয়েটাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছে। তবে বাল্যবিবাহ হয়ে কোনো মেয়ের জীবন ধ্বংস হোক—এটা আমরা চাই না।’
থানায় অবস্থান নেওয়া ওই শিক্ষার্থী জানায়, তার বাবা, ভাই ও ভাবি মিলে জোর করে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন।কিন্তু সে এখন বিয়ে করতে রাজি না। আর কয়েক দিন পর তার এসএসসি পরীক্ষা। সে পরীক্ষা দিতে চায়।
সে বলে, ‘লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই।
বিয়ে ঠেকাতে আমি দুইবার থানায় এসেছি। সবার কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার বিয়েটা ঠেকান।’
এ বিষয়ে ওই মেয়ের বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছর তিন মাস। তার জন্য সব সময় ভালো ছেলের খোঁজ পাই না। এবার একটা ভালো বিয়ের প্রস্তাব এসেছে বিধায় আমরা রাজি হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই তাকে বিয়ে দিয়ে সংসারী করে জীবনটা দাঁড় করাতে। আর সে চাচ্ছে লেখাপড়া করে চাকরি করতে। একটা অবিবাহিত মেয়ে চাকরি করলে মানুষজন কী বলবে।’
এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর স্কুল শিক্ষক নাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা তাকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি। এই বিবাহ যেকোনো মূল্যে ঠেকাব। কোনো শিক্ষার্থীকেই আমরা ঝরে পড়তে দেব না।’
জিয়ানগর থানার দায়িত্বরত উপপরিদর্শক সাইদুর রহমান জানান, বাল্যবিবাহ দেবে না—এই শর্তে লিখিত আকারে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রেখে ওই মেয়েকে তার বাবার কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
- বিষয়:
- বাল্যবিবাহ* থেকে,রক্ষা
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: