• ঢাকা
  • সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বোয়ালমারীতে রেলওয়ের বরাদ্দকৃত জমি নিয়ে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২৪ পিএম;
বোয়ালমারীতে রেলওয়ের বরাদ্দকৃত জমি নিয়ে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলওয়ের নিকট থেকে বরাদ্দকৃত জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দুই নেতা। বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান এবং সাবেক ছাত্রনেতা উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন (বহিষ্কৃত) যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক সামছুদ্দিন মিয়া ঝুনু একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। 
 
বোয়ালমারী পৌর সদরে অবস্থিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'পাঞ্জেরী মডেল মাদ্রাসা'র (সাবেক পাঞ্জেরী কিন্ডারগার্টেন) রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে লীজকৃত ৬৬ শতাংশ জমি জবর দখলের অভিযোগ এনে বিএনপি নেতা শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন করেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ সৈয়দ নিয়ামুল হাসান।
রবিবার (০৫ জুলাই ২০২৬) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকগণ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ সংবদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। 
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ রেলওয়ের লীজকৃত জমি অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং অভিযুক্ত শামছুদ্দিন মিয়া ঝুনুর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্যে সৈয়দ নিয়ামুল হাসান বলেন, ১৯৯৬ সালে বোয়ালমারী রেল স্টেশন এলাকায় ২৭০/৬ থেকে ২৭০/৯ নং খুটির মধ্যে অবস্থিত ৬৬ শতাংশ জমি পাঞ্জেরী মডেল মাদ্রাসার অনুকূলে বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই থেকে জমির খাজনাদি নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে মাদ্রাসাটি। তথাপিও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে পুরো জায়গাটি অবৈধ ভাবে দখল করে নিয়ে ভোগ দখল করছেন শামসুদ্দীন মিয়া। বর্তমানে তিনি ওই জমির কিছু অংশে কৃষি আবাদ এবং রাস্তা সংলগ্ন বাকি অংশে বেআইনি ভাবে পাকা স্থাপনা গড়ে তুলে তা মোটা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। জামাতের এই নেতা সামছুদ্দিন মিয়া ঝুনুকে ভূমিদস্যু বলে আখ্যায়িত করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ সৈয়দ নিয়ামুল হাসান আরো বলেন, পাঞ্জেরী মডেল মাদ্রাসার নিজস্ব কোন জমি নেই। ১৯৯১ সাল থেকে একটি ভাড়া করা জায়গায় মাদ্রাসাটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এলাকায় দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারের খাতিরে রেল কর্তৃপক্ষ নালিশী জমিটি মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ দিলেও শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর বাঁধার কারণে আমরা সেখানে কিছু করতে পারছি না। ফলে ক্রমাগত প্রসার লাভ করা মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম বর্তমানে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা  থাকলেও পেশীশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব মামলা-মোকদ্দমা তিনি সামাল দিয়ে চলেছেন বলে অভিযোগ করেন নিয়ামুল।  
 সংবাদ সমোলনে তিনি অভিযুক্ত নেতা শামছুদ্দিন মিয়া ঝুনুর বিচার দাবির পাশাপাশি অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে রেলের লিজকৃত জমি মাদ্রাসার দখলে ফিরিয়ে দিতে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের শীর্ষ পর্যায় সহ সরকারের উচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

অপরদিকে বিএনপি নেতা সামছুদ্দিন মিয়া ঝুনু দুপুরে পৌর সদরস্থ নিজ বাস ভবনে পাল্টা অভিযোগ এনে অপর একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। 
সংবাদ সম্মেলনে  আদালত ও রেল কর্তৃপক্ষের তাঁর নামে দেওয়া নথিপত্র পেশ করে নিজেকে বৈধ লিজ গ্রহীতা দাবি করেন। তিনি বলেন, ২০ বছর আগে উচ্চ আদালতে মিমাংসিত বিষয় নতুন করে উত্থাপনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের  অংশ কিনা তা সুশীল সমাজকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানান।
সামছুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এহেন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 
উভয় সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেন।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন