• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

প্লেগে রুশ গবেষকের মৃত্যু, কোয়ারেন্টাইনে দুই শতাধিক


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৩৭ পিএম;
প্লেগে রুশ গবেষকের মৃত্যু, কোয়ারেন্টাইনে দুই শতাধিক

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে ২৮ বছর বয়সী এক ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর তার সংস্পর্শে আসা দুই শতাধিক মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত পাঁচটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা এবং ইরকুতস্ক অঞ্চলে সব ধরনের জনসমাগম ও প্রকাশ্য অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

শেলেখোভের অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ওই টেকনিশিয়ানের নাম দারিয়া শিপিলোভা। একটি টেস্টটিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অত্যন্ত সংক্রামক নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াবাহী একটি টেস্টটিউব দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যাওয়ার কথা চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন শিপিলোভা। এরপর গত ২৯ সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে তাকে শেলেখোভের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। পরে ১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সংক্রমণ প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ প্রথমে সেখানে ‘বিশেষভাবে বিপজ্জনক সংক্রমণের’ সম্ভাব্য ঘটনা শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

তবে গত রোববার তিনি নিশ্চিত করেন, এটি মূলত অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়ার একটি ঘটনা। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, রোগীর নমুনা থেকে তার পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া যায়নি। গত ১০ দিনের মধ্যে ওই ইনস্টিটিউটের কোনো কর্মীর মধ্যেও সংক্রামক রোগের লক্ষণ দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।

গভর্নর আরও জানান, রোগীর সংস্পর্শে আসা সবাইকে শনাক্ত ও পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং নিয়মিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করা হচ্ছে। জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমন্বয়ের জন্য রাশিয়ার ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা রোস্পোট্রেবনাদজরের প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।

এদিকে পার্শ্ববর্তী বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সি সিদভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরকুতস্ক অঞ্চলে এক নারী ‘সম্ভবত প্লেগ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন’। তবে তার অঞ্চলে প্লেগের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই বলেও জানান তিনি।

নিউমোনিক প্লেগ কী?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিউমোনিক প্লেগ হলো প্লেগের সবচেয়ে বিপজ্জনক ধরন। সংক্রমণের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শ্বাসকষ্ট, তীব্র কাশি এবং অনেক ক্ষেত্রে রক্তমিশ্রিত কফ এ রোগের প্রধান লক্ষণ।

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়াতে পারেন। দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু না করলে এ রোগ প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে বিশেষ করে লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন