বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন
পারভেজ, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশালে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্য অবসর ও কল্যাণ ভাতার সম্পূর্ণ অর্থ এককালীন পরিশোধের দাবিতে
সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ৩রা অক্টোবর সকাল ১০টায় নগরীর বরিশাল সিটি কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশের দায়িত্ব পালন করেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। অথচ অবসরে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৬ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করেও অনেকে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতার অর্থ পাচ্ছেন না। ফলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আর্থিক সংকট, অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি অর্থের অভাবে অনেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিপ্লব কান্তি দাসের দায়ের করা রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মহামান্য হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য অর্থের ১০ শতাংশ হারে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেন। তবে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধ নিয়ে এখনো জটিলতা রয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
তাঁরা আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাপ্য অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতার অর্থ পরিশোধের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক আবেদনকারী এখনো সেই অর্থ পাননি। পাশাপাশি অবশিষ্ট অর্থ কবে এবং কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাপ্য সর্বশেষ প্রবৃদ্ধিসহ মূল বেতনের ১৬৬ মাসের সমপরিমাণ অর্থ এবং অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে এককালীন অর্থ পরিশোধের দাবি জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, সভাপতি অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক, মো. হেমায়েত উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহ আলম, হারুন অর রশিদ, অধ্যক্ষ জাফর আহম্মেদ, মোহাম্মদ লুৎফর রহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি গণমাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: