• ঢাকা
  • রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

দাওয়াত না পেয়ে মাতুব্বর ক্ষুব্ধ, স্কুলে যেতে পারছে না ৩০ শিক্ষার্থী


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:২৮ পিএম;
দাওয়াত না পেয়ে মাতুব্বর ক্ষুব্ধ, স্কুলে যেতে পারছে না ৩০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

 

ফরিদপুরের সদরপুরে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক মাতুব্বরকে দাওয়াত না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। পরে এর জেরে একটি গ্রামের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পাঠদান।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের নছর উদ্দিন খার ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসান স্থানীয়ভাবে মাতুব্বর হিসেবে পরিচিত। তার কথামতো এলাকার বাসিন্দাদের চলতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে কামরুল হাসানকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে নির্মাণকাজ উদ্বোধনের বিষয়টি জানায়। ফলে অনুষ্ঠানে কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়ার পর কামরুল হাসান স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করেন। সেখানে তিনি তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর গত কয়েকদিন ধরে ওই গ্রামের প্রায় ৩০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, কামরুল হাসানের প্রভাবের কারণে অনেকে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ আশপাশের বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করানোর চেষ্টা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চারজন শিক্ষক ও ১০৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবন উদ্বোধনের আগে নিয়মিত প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকত। তবে গত কয়েকদিন ধরে উপস্থিতি কমে ২৫ থেকে ৩০ জনে নেমেছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কামরুল হাসানকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ক্ষুব্ধ হন। পরে অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার কথা বলেন। তার প্রভাবের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, হঠাৎ করে এতসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে না আসায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাঁচ-ছয়জন শিক্ষার্থী টিসি নিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভগিরত সাহা বলেন, ওই বিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ২৫ থেকে ২৭ জন শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে আমাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসেছিল। তবে টিসি না থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে ভর্তি করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার বাড়ি ওই এলাকায় হলেও সরকারি চাকরির সুবাদে আমি ফরিদপুর শহরে থাকি। ওই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হয় না বলে হয়তো অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করতে চাইছেন।

তিনি বলেন, বছরের শুরুতে টিসি না নিয়ে ১০ মাস পর হঠাৎ অভিভাবকেরা টিসি নেওয়ার পেছনে আমার হাত রয়েছে—এমন কথা কেউ হয়তো শত্রুতা করে বলছে। এ বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

ভাষাণচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফরিদ হোসেন বলেন, ‘কামরুল হাসান নছর উদ্দিন খার ডাঙ্গী এলাকার মাতুব্বর। তিনিই ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন।’

ভাষাণচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম কাওসার বলেন, ওই স্কুলে একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা যাচ্ছে না—এ বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ‘ভবনের নির্মাণকাজের উদ্বোধনের বিষয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে আমাদের জানিয়েছিল। ফলে আমরা কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাইনি। বিষয়টি আমি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি।

সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন