ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সাগরে জেলেরা, দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের
বহু আশা ও স্বপ্ন বুকে ঋণ আর দাদনের টাকা নিয়ে ট্রলারে জাল জ্বালানি ও রসদ সংগ্রহ করে সাগরে ছুটছেন পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। আশা সাগরে জাল ফেললেই ধরা পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। কিন্তু বাস্তবে মিলছে না সেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন-রাত সাগরে অবস্থান করেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় অনেকটা খালি ট্রলার নিয়েই হতাশ হয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা।
জেলেরা জানান, আষাড়-শ্রাবণ মাস ইলিশের মৌসুম থাকলেও, সাগরে মিলছেনা কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। যার কারনে হতাশায় ভুগছেন জেলেরা। জেলেদের দাবি, এনজিও, ব্যাংক ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ এবং দাদন নিয়ে সাগরে নামতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু মাছের পরিমাণ কম হওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। একদিকে ঋণের কিস্তি ও পাওনাদারের চাপ, অন্যদিকে সংসারের খরচ-সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। জেলেদের অভিযোগ, মাছ না পাওয়ার এই দুর্দিনে সরকারি বরাদ্দের চালও অনেকে ঠিকমতো পাচ্ছেন না।
ইলিশের সংকটে শুধু জেলেরাই নন, দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় আড়তদার ও গদি মালিকেরাও। ট্রলার সাগরে পাঠাতে জেলেদের পেছনে লাখ লাখ টাকা দাদন হিসেবে বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত মাছ না আসায় সেই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইলিশের বিচরণ ও আহরণে প্রভাব পড়ছে। সাধারণত যে সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, এ বছর সে সময়েও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে আবহাওয়া ইলিশের অনুকূলে না থাকায় নদী ও সাগরে ইলিশের বিচরণ কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে জেলেদের আহরণেও। এ কারণে জেলেরা নদী ও সাগরে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ পাচ্ছেন না। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ইলিশের বিচরণ ও আহরণ বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: