আহারে জীবন! একবছরে লাশ কঙ্কাল, কেউ খোঁজ নেয়নি
মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু সভ্যতা যত এগুচ্ছে, সামাজিকতার টান যেন ততই আলগা হচ্ছে।
বিচ্ছিন্নতা, বিষন্নতা, স্বজনহীনতার পরিণতি কী হতে পারে, তার একটি চিত্র দেখা গেল শনিবার সকালে ভারতের বেঙ্গালুরুর বাগালাগুন্ট এলাকায়।
প্রতিবেশীদের দেয়া খবরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙ্গে বাগালাগুন্টের হাভানুর লেআউট এলাকার একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি থেকে ৫২ বছর বয়সী এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করে। তবে প্রতিবেশীদের খবর দিতে একবছর সময় লেগেছে।
পুলিশের ধারণা, অন্তত একবছর আগে দাক্ষায়নী নামের এই নারী মারা গেছেন।
তার মানে একবছর ধরে কোনো স্বজন, কোনো প্রতিবেশী বা বন্ধু একবারের জন্যও এই দুর্ভাগা নারীর খোঁজ নেননি। একবছর পর হঠাৎ প্রতিবেশীদের কারো কারো সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ডুপ্লেক্স বাড়িটিতে তিনি একাই থাকতেন। বাড়ির সব দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় লাশ পচার গন্ধও কেউ পায়নি।
আস্তে আস্তে এক বছরে তা কঙ্কালে পরিণত হয়।
পুলিশ জানিছে, স্বামী ও ছেলের মৃত্যুর পর থেকে দাক্ষায়ণী তীব্র বিষণ্নতায় ভূগছিলেন এবং বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁর স্বামী উমেশ প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান। পরবর্তীতে তাঁর ছেলেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তিনি বিষণ্নতায় ডুবে যান। তবে তার এক কন্যা এবং জামাতা রয়েছে।
কিন্তু গত একবছরে তারা একবারও মায়ের খোঁজ নিতে আসেননি বা ফোন করেননি।
কঙ্কালটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।
বাগালাগুন্টে থানা পুলিশ এই রহস্যজনক ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। কেন তারা একবছরেও কোনো খোঁজ নেয়নি, এটা জানতে পুলিশ দাক্ষায়নীর মেয়ে ও জামাতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তথ্য নেয়া হচ্ছে প্রকিবেশীদের কাছ থেকেও।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: