গণভোট নিয়ে অন্ধকারে বেশির ভাগ ভোটার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’র ওপর সিল দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচারণাও চালানো হয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ভোটার গণভোটের বিষয়ে রয়েছে অন্ধকারে। এমনকি জুলাই সনদে কী কী আছে, তা ৭৭ শতাংশ মানুষ জানে না বলে জরিপে উঠে এসেছে।
সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারে নম্বর থাকলেও গণভোটের ব্যালট পেপারে নম্বর না থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চলালেও ‘না’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছে জাতীয় পার্টি ও বামপন্থী দলগুলো। বিএনপি ‘হ্যাঁ’র পক্ষে থাকলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, এবারের গণভোটটি মূলত সাংবিধানিক গণভোট।
গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আসা সরকার, যার প্রধান এজেন্ডা হচ্ছে সংস্কার, বিচার দৃশ্যমান করা ও নির্বাচন। সংস্কারের জন্য জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং তারা এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষরও করেছে। সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে হবে। আর গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে ওই সংস্কারগুলোর বাস্তবায়ন সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ী দলের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
জনমত জরিপের ফলাফল : আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলেই বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়িত হবে। তবে জুলাই সনদে কী কী রয়েছে, তা জানে না ৭৭.২ শতাংশ মানুষ। বিপরীতে ৩৭.২ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদ সম্পর্কে জানলেও গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) ও ইয়ুথ ফর পলিসির চালানো প্রাক-নির্বাচনী জনধারণা জরিপের ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে আইআইডির প্রধান নির্বাহী পরিচালক সাইদ আহমেদ বলেন, ‘হ্যাঁ’ জিতলে বা ‘না’ জিতলে কী হবে তা জনসাধারণ পরিষ্কারভাবে জানে না। হ্যাঁ জিতলে কী হবে, সে বিষয়ে জাতীয়ভাবে জানার ঘাটতি আছে ২৯.৬ শতাংশের। একইভাবে ‘না’ জিতলে কী হবে এ বিষয়ে ধারণা নেই ৩৩.৬ শতাংশের। তিনি জানান, এই জরিপে ৯ হাজার ৮৯২ জন ভোটার অংশ নিয়েছে। গত ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের আট বিভাগে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা জুলাই সনদে কী আছে তা জানেন। তবে এই গড় হিসাবের আড়ালে বড় বৈষম্য আছে। নির্দিষ্ট সংস্কার বিষয়েও জনমনে ধারণা দুর্বল। উদাহরণ হিসেবে মৌলিক অধিকার নিয়ে কী পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছে, তা জানেন বলেছেন ৪৩.১ শতাংশ উত্তরদাতা। জাতীয়ভাবে এ বিষয়ে ‘জানি না’ বলেছেন ৫৫.৩ শতাংশ উত্তরদাতা, যা বয়স্ক ও কম শিক্ষিত উত্তরদাতাদের মধ্যে আরো বেশি।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দেখা যায় ব্যালটের ভাষা পড়া ও বোঝার সক্ষমতার ক্ষেত্রে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের ৫৭.৪ শতাংশের ব্যালটের ভাষা পড়া ও বোঝার সক্ষমতা নেই। যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাদের অবস্থা আরো ভয়াবহ বলে জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া : নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রথমে পোলিং অফিসার ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। সব ঠিক থাকলে ভোটারের বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। এরপর দুটি ব্যালট পেপার দেবেন (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট)। ব্যালটের পেছনে অফিশিয়াল সিল এবং প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকতে হবে।
ব্যালট নিয়ে ভোটদানের জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে যেতে হবে। পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর এবং আলাদা ব্যালটে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’র ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট পেপারটি এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে, যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি উন্মুক্ত স্থানে রাখা সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- গণভোট* নিয়ে,অন্ধকারে
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: