বোয়ালমারীতে ইউনিয়ন বিএনপি সম্মেলনে টানটান উত্তেজনা, নির্যাতিতদের মূল্যায়নের দাবি
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন নিয়ে টানটান উত্তেজনা চলছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মিরা চাইছে দলের ত্যাগি এবং নির্যাতিতদের যথাযথ মুল্যায়ন করা হোক।
সম্প্রতি উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকায় কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই। উপজেলা নেতৃবৃন্দ আলোচনার ভিত্তিতে কমিটি ঘোষনা করবেন বলে জানা গেছে। তবে ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল কর্মিরা দাবী জানিয়েছেন, যে সকল নেতা বিগত সরকারের আমলে নানা ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, মামলা হামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদেরকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হোক।
রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে বেশ পড়েছে। গত ৮ জুলাই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই ঘটে যায় এক অপ্রীতিকর ঘটনা, সম্মেলনের মাঠে (সোতালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন) সভাপতি প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির প্রাক্তন সভাপতি আবুল কালাম মিয়া ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. বিশু মোল্যার সমর্থকদের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় উভয় গ্রুপের ৫ জন আহত হয়।
ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা।
এই সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী হন ৩জন। কদমী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম মিয়া। তিনি রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির দীর্ঘ ২৪ বছর যাবৎ সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বিগত সরকারের আমলে বিস্ফোরক, অস্ত্র আইনসহ এলাকার বিভিন্ন প্রকার ৫৩ টি মামলায় পড়েছেন। অধিকাংশ মামলা খারিজ হলেও বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে । একটা সময় তিনি পরিবার নিয়ে ফরিদপুর চলে যান।
৩ বছর পর পরিবার নিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, বিগত সরকার আমলে রাজনীতি করতে গিয়ে হামলা মামলার শিকার হয়েছি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমি শতভাগ আশাবাদী ত্যাগী নেতা হিসাবে সভাপতি পদটি আমি পাব।
আরেক সভাপতি প্রার্থী কদমী গ্রামের মো. মিলু মোল্যা দীর্ঘ বছর ধরে রূপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনিও আ' লীগ আমলে অস্ত্র আইনসহ ৩৮ টি মামলার আসামী হয়েছেন। মিলু মোল্যা বলেন, অনেক হামলা মামলার শিকার হয়েছি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
আরেক সভাপতি প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সদস্য কাটাগর গ্রামের মো. বিশু মোল্যা তিনি বলেন, জীবন কাটিয়ে দিলাম বিএনপির রাজনীতি করে। আশা করি সভাপতি পথটি আমাকে দিয়ে দল আমার মূল্যায়ন করবে।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন ৩ জন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বনমালীপুর গ্রামের বাসিন্দা মইনুল ইসলাম বলেন, ২০০২সালে রুপাপাত ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, ২০১২ সালে রূপাপাত ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ছিলাম। সে সময় ভোটের মাধ্যমে সভাপতি হয়েছিলাম।
উপজেলা নির্বাচনের সময় একবার গ্রেফতার হয়ে ৪-৫ দিন হাজত খেটেছি। তিনি আ'লীগের আমলে ৫টি রাজনৈতিক মামলা শিকার হয়েছেন।
তিনি বিএনপির দুঃসময়ে দলের নেতাকর্মীকে সহযোগিতা করেছেন।
এলাকার একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, মইনুল ইসলাম বিএনপির দুর্দিনের নেতা সে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন পদটি পাওয়ার দাবীদার।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আছি। এই বিএনপি করতে গিয়ে জ্বালাও পোড়াও অস্ত্র আইনসহ মোট ১০টি মামলা খেয়েছি। আমার বাবা উপজেলা বিএনপি ও ইউনিয়ন কমিটিতে সব সময় পদে রয়েছে। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। তবুও এলাকা ছাড়িনি। দল যদি মনে করে আমি যোগ্য তাহলে অবশ্যই পদটি আমাকে দেবে।
সাধারণ সম্পাদক পদে অপর এক প্রার্থী অরুন মন্ডলের রাজনৈতিক কোন ইতিহাস নেই। তার বাড়ি সুতালিয়া।
অপর দিকে উপজেলা বিএনপির নীতি নির্ধারকরা বলছেন, ত্যাগীরাই পদ পাবেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: