• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

Advertise your products here

  1. লাইভ

অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শেষ যাত্রা:সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীনের প্রস্থান, বাকেরগঞ্জে শোকের ঢেউ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:০৯ পিএম;
অশ্রুসিক্ত বিদায়ে শেষ যাত্রা:সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীনের প্রস্থান, বাকেরগঞ্জে শোকের ঢেউ

নজরুল ইসলাম আলীম:

 

বেদনার ভারে নুয়ে পড়েছে বাকেরগঞ্জ। অশ্রুসিক্ত নয়নে, গভীর শোক ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হলো দক্ষিণবঙ্গ পত্রিকার প্রকাশক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক সাইদুর রহমান শাহীনকে। আজ ২৯ মার্চ বিকেল ৫টায় তাঁর নিজ বাড়িতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়—চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এক সাহসী, নির্ভীক ও মানবিক কলমযোদ্ধা।জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির মাহমুদুন্নবী তালুকদার,বাকেরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফিরোজ মাওলানা,পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান বাবু, সাবেক চেয়ারম্যান তালাশ সাজ্জাদুল ইসলাম মোল্লা, বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান রোমান, বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিছুর রহমান লিমন, দৈনিক দক্ষিণের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদ মোঃ হাবিবুর রহমান সহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে—শাহীন শুধু একজন ব্যক্তি নন, ছিলেন একটি প্রিয় নাম, একটি আস্থার প্রতীক।
এর আগে, আজ সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়ি ১২ নম্বর রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর এই অকাল প্রয়াণ সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।প্রায় দুই মাস আগে নিজ বাড়ি পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের খন্দকার বাড়িতে হঠাৎ স্ট্রোক করলে প্রথমে তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হন তিনি।সাইদুর রহমান শাহীন ছিলেন এমন একজন সাংবাদিক, যার পরিচয় কেবল তাঁর পদবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন সত্যের অনুসন্ধানী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক নির্ভীক কণ্ঠ। তাঁর কলমে ছিল সাহস, ভাষায় ছিল সততা, আর আচরণে ছিল মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকসুলভ—যিনি নতুনদের পথ দেখাতেন, ভুল সংশোধন করতেন এবং সবসময় পাশে দাঁড়াতেন।তাঁর এই অকাল প্রয়াণে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে যেন এক নিঃশব্দ ক্রন্দন নেমে এসেছে। সহকর্মীরা বলছেন, “শাহীন ভাইয়ের মতো মানুষ শুধু সহকর্মী ছিলেন না—তিনি ছিলেন পরিবারের মতো, প্রেরণার মতো।” এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, এক কন্যা এবং বৃদ্ধ মাতাকে। তাঁদের শোকের ভার বহন করা নিঃসন্দেহে কঠিন—তবুও সমাজের অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া তাঁদের পাশে থাকবে, এমনটাই প্রত্যাশা।আজকের দিনে, যখন সাংবাদিকতা নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন সাইদুর রহমান শাহীনের মতো সৎ, সাহসী ও আদর্শবান মানুষের অভাব আরও তীব্র হয়ে উঠবে। তাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে—কীভাবে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হয়, কীভাবে মানুষের জন্য কলম ধরতে হয়।এই বিদায় শুধু একজন মানুষের নয়—এটি একটি আদর্শের বিদায়, একটি আলোর প্রদীপ নিভে যাওয়ার গল্প। তবুও তাঁর স্মৃতি, তাঁর আদর্শ, তাঁর সাহস বেঁচে থাকবে প্রতিটি ন্যায়সংগত প্রতিবাদে, প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদে।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য দান করুন। আমিন।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন