• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. লাইভ

পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:২৯ পিএম;
পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য

এস এম রুবেল

 

প্রতিবছর ঘুরে ফিরে আসে পবিত্র রমজান মাস। এই মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত, ক্ষমা ও মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে। ইসলাম ধর্মে রমজান মাসকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই মাসে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন এবং অসংখ্য নেক আমলের সুযোগ প্রদান করেন।

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ দশ দিন নাজাতের। প্রথম দশকে আল্লাহর রহমত নাজিল হয়, দ্বিতীয় দশকে আল্লাহ বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন এবং শেষ দশকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এই মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করেন। রোজা শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করার নাম নয়; বরং এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও তাকওয়া অর্জনের এক মহান শিক্ষা। রমজান মাসে মুসলমানরা বেশি বেশি নামাজ আদায় করেন, কোরআন তিলাওয়াত করেন, দান-সদকা করেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এক মাস সিয়াম সাধনার পর যখন শাওয়াল মাসের চাঁদ আকাশে উদিত হয়, তখন মুসলিম বিশ্বে নেমে আসে আনন্দের বার্তা। উদযাপিত হয় মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই দিনটি মুসলমানদের জন্য আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসা ভাগাভাগির দিন।

ঈদের দিন মুসলমানরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বা নতুন পোশাক পরিধান করেন। অনেকেই পাঞ্জাবি-পাজামা কিংবা নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদগাহে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। সুন্নত অনুযায়ী আতর, কস্তুরি বা অন্যান্য সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। এতে ঈদের দিনের সৌন্দর্য ও আনন্দ আরও বৃদ্ধি পায়।

ঈদুল ফিতরের নামাজে যাওয়ার আগে মিষ্টি কিছু খাওয়া সুন্নত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঈদের দিন নামাজে যাওয়ার আগে খেজুর খেতেন। তাই অনেক মুসলমান খেজুর বা মিষ্টি দিয়ে মিষ্টিমুখ করে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
এরপর মুসলমানরা দলবদ্ধভাবে ঈদগাহ বা খোলা ময়দানের দিকে রওনা হন। সেখানে দুই রাকাত ওয়াজিব ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে ইমাম সাহেব খুতবা প্রদান করেন, যেখানে মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপদেশ দেওয়া হয়। খুতবা শেষে দোয়া করা হয়—সবার জন্য কল্যাণ, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করে।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং “ঈদ মোবারক” বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। ছোটদের মাঝে ঈদী দেওয়ার আনন্দ, ঘরে ঘরে সুস্বাদু খাবার ও মিষ্টান্ন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ঈদের উৎসব আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাস পেয়েও আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, সে প্রকৃতই দুর্ভাগা। তাই এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রমজান আমাদের শেখায় আত্মসংযম, ধৈর্য, দানশীলতা এবং মানবতার শিক্ষা। আর ঈদুল ফিতর সেই সাধনার সফল সমাপ্তির আনন্দঘন মুহূর্ত। এই দিনটি শুধু আনন্দের নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা প্রকাশেরও এক অনন্য উপলক্ষ।

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন