• ঢাকা
  • বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কুকুর কামড়ের পর ভ্যাকসিন নিয়েও ৫ জনের মৃত্যু, দায় কার?


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৪২ পিএম;
কুকুর কামড়ের পর ভ্যাকসিন নিয়েও ৫ জনের মৃত্যু, দায় কার?

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ের পর টিকা নিয়েও একে একে মারা গেছেন পাঁচজন। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন নারী ও দুই পুরুষের মৃত্যুতে আতঙ্কে দিন কাটছে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের মানুষের। একই ঘটনায় আহত আরও অন্তত ২৬ জনের অনেকেই এখনো শঙ্কায় রয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, টিকা নেওয়ার পরও যদি মৃত্যু ঠেকানো না যায়, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?

এই পাঁচজনের মৃত্যু ঘিরে সামনে এসেছে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতার চিত্র। স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দায় এড়ানোর চেষ্টা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিতে দেখা গেছে।

গত ২২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ৪, ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের কঞ্চিবাড়ি, বজরা কঞ্চিবাড়ি, সতীরজানসহ কয়েকটি গ্রামে যেন তাণ্ডব চালায় একটি পাগলা কুকুর। ইউনিয়ন পরিষদ প্রথমে ১৩ জন আহতের তালিকা তৈরি করলেও পরবর্তীতে তা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়ায়। তবে ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে ওই কুকুরের কামড়ে মোট ২৬ জন আহত হওয়ার তথ্য জানা গেছে। ঘটনার পর ওই কুকুরকে স্থানীয়রা পিটিয়ে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে। 

আহতদের মুখ, গাল, নাক, গলা, বুক, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের ক্ষত এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা দেখলে আতকে উঠবে যে কেউ। 

রোববার (১৭ মে) সরেজমিনে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এখনো সেখানে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ রয়েছে। এতে শিশু-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ভ্যাকসিন কেন্দ্র, রেজিস্ট্রার এবং আহত-নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, আহত ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন নেন। অন্যরা রংপুরসহ বিভিন্নস্থান থেকে টিকা গ্রহণ করেন। পরে অনেকে আবার গাইবান্ধা হাসপাতালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ সম্পন্ন করেন। নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন গাইবান্ধায় ভ্যাকসিন নেন এবং একজন সেখানে তৃতীয় ডোজ গ্রহণ করেন।


ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা
নিহতদের পরিবার ও আহতদের অনেকের দাবি, তারা সরকারি অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিনের পাশাপাশি বাজার থেকে প্রায় এক হাজার টাকা মূল্যের র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (আরআইজি) কিনে নিয়েছেন। ক্ষতস্থান সাবান-পানিতে ধোয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়াও অনুসরণ করেছিলেন তারা।

এসবের পরও ঘটনার ১৪ দিন পর ৬ মে প্রথম মারা যান ৭নং ওয়ার্ডের খোকা রামের স্ত্রী নন্দরানী (৫৫) এবং একইদিন মারা যান ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুল মিয়া (৫২)।

এর দুই দিন পর ৮ মে মারা যান পাশের ছাপরহাটি ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট এলাকার কাঠমিস্ত্রি রতনেশ্বর বর্মণ। পরে ১২ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ধুবনী বাজার এলাকার আফরুজা বেগম (৪০)। সর্বশেষ ১৩ মে নিজ বাড়িতে মারা যান একই এলাকার সুলতানা বেগম।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাসময়ে কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়া, মানসম্মত ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলার কারণেই এসব মৃত্যু ঘটেছে। তবে চিকিৎসকদের ভাষ্য, শরীরের কামড়ের স্থান মাথা বা মস্তিষ্কের কাছাকাছি হলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। 

চিকিৎসকরা বলছেন, র‍্যাবিস এমন একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর প্রায় সব ক্ষেত্রেই মৃত্যু অনিবার্য। 

ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভির রহমান কল্লোল বলেন, ‘র‍্যাবিস আক্রান্ত প্রাণীর কামড় নিশ্চিত হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সাবান ও পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুতে হবে। এরপর দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে হবে। ক্ষত গভীর হলে অবশ্যই আরআইজি নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগটি স্নায়ুতন্ত্র হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তাই মাথার কাছাকাছি কামড় হলে দ্রুত সংক্রমণ ঘটতে পারে।’

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ভ্যাকসিন ইনচার্জ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে ওই সময়ে আরআইজির সরকারি সরবরাহ ছিল না। রোগীরা বাইরে থেকে কিনে এনেছেন। আহতদের অনেকের ক্ষেত্রে তিন থেকে চার ডোজ আরআইজি প্রয়োজন ছিল, কিন্তু অধিকাংশই মাত্র একটি করে ডোজ নিয়েছেন।

তবে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২২ এপ্রিলের তালিকায় আরআইজি গ্রহণের ঘর ফাঁকা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেহেতু বাইরে থেকে কিনে আনা হয়েছিল, তাই তা লিপিবদ্ধ করা হয়নি।’

এদিকে নিহতদের পরিবারগুলোর শোক এখনও কাটেনি। সুলতানা বেগমের বাড়িতে ছোট পরিসরে দোয়ার আয়োজন চলছিল। নন্দরানীর পরিবার হিন্দু ধর্মীয় আচার পালন করছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকে কাতর ফুল মিয়ার পরিবার। আফরুজা বেগমের দুই ছেলে মাকে হারিয়ে দিশেহারা।

নিহতদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেকে হয়রানি, দুর্ব্যবহার, এমনকি টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।

আফরুজা বেগমের ছেলে মোনারুল ইসলাম বলেন, ‘মাকে কামড় দেওয়ার পর ২০-৩০ মিনিট সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে রংপুরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাই। তারপরও তাকে বাঁচানো গেল না। এই সময়ে কেউ খোঁজও নেয়নি।’

ফুল মিয়ার স্ত্রী জমিলা খাতুন বলেন, ‘আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সাবান দিয়ে ধুয়ে ভ্যাকসিনও দিয়েছি। তারপরও স্বামীকে বাঁচাতে পারিনি।’ তার অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসার সময় গজ, সুতা থেকে শুরু করে অনেক কিছু কিনতে হয়েছে এবং টাকা ছাড়া ইনজেকশন দেওয়া হয়নি।

নন্দরানীর ছেলে কনকর চন্দ্র বলেন, ‘মায়ের গালের মাংস ছিঁড়ে নিয়েছিল কুকুরটি। দ্রুত রংপুরে নিয়ে গিয়ে ভ্যাকসিন দিই। পরে গাইবান্ধায় তৃতীয় ডোজও নিই। তারপরও মা মারা যান।’

তবে নিহত পাঁচজনের মধ্যে রতনেশ্বর বর্মণের ক্ষেত্রে চিকিৎসায় ব্যতিক্রম তথ্য পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনি ভ্যাকসিন পাননি এবং ক্ষতস্থানও ধোয়া হয়নি।

স্থানীয় শিক্ষক ফজলে রাব্বি বলেন, ‘এত বড় ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। সঠিক ফলোআপ ও পর্যবেক্ষণ থাকলে হয়তো পাঁচজনকে বাঁচানো যেত।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ‘এ সময়ে এসে কুকুরের কামড়ে মানুষের মৃত্যু হওয়া দুঃখজনক। এ দায় পুরোপুরি এড়ানোর সুযোগ নেই।’

তবে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এর আগে বলেন, ‘কুকুর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ বিভাগের।’

অন্যদিকে গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম বা ভ্যাকসিন আমাদের কাছে নেই। এসব কাজ ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার মাধ্যমে করতে হয়।’

এ প্রসঙ্গে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ বিভাগ কুকুরকে ভ্যাকসিন দেবে। এসব আমাদের কাজ না। আমাদের বাজেট নেই, ডাক্তার নেই, ভ্যাকসিন নেই। প্রাণিসম্পদ পাশ কাটিয়ে যেতে চাইছে। প্রাণিসম্পদ যদি যথাযথ কাজ করতো তাহলে এই পাগলা কুকুর বেপোরোয়াভাবে কামড়াতো না। এটার দায় তাদের নিতে হবে।’

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘সিভিল সার্জন (স্বাস্থ্য বিভাগ) রোগীগুলোর ক্ষেত্রে আন্তরিকভাবে কাজ করেনি। উপজেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর টিম করে ভ্যাকসিন দেওয়া যেত। কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে গাইবান্ধা হাসপাতলে পাঠানো হয়েছে, চিকিৎসা দেওয়ার দায়িত্ব তাদের। এখন পর্যন্ত সিভিল সার্জন বা টিএসও- কেউ আসেন নাই। এমনকি একটি কর্মীকেও পাঠানো হয় নাই। এখানে সিভিল সার্জনের স্বাস্থ্যকর্মী আছেন, প্রাণিসম্পদের কর্মী আছেন তারা খবর নিতে পারতেন।’

৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাজরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় এখনও আতঙ্ক কাটেনি। মানুষ জানে না ওই কুকুর অন্য কোনো প্রাণীকেও আক্রান্ত করেছে কিনা। উপজেলা প্রশাসন একদিনে নামে মাত্র সাতটি কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়েছে। তারপর আর আসেনি।’

এদিকে পাঁচজনের মৃত্যুর পর ১৩ মে স্বাস্থ্য বিভাগ আহতদের তদারকিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. সাইদুর রহমানের সমন্বয়ে সাত সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। তবে সর্বশেষ ১৯ মে ঘটনা তদারকির জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ছয় সদস্যের একটি টিম সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পৌঁছেছেন।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা, গুণগত মান ও মেয়াদের বিষয় নিয়ে গাইবান্ধা ওষুধ প্রশাসনের অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর আহসান হাবীব ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও মেয়াদের বিষয়টি নিয়ে ওষুধের দোকানগুলোতে দেখব। এটা জানা দরকার যে, তারা কোন কোন দোকান থেকে ভ্যাকসিন কিনেছিলেন। কেউ কেউ রংপুর গিয়েও কিনেছে বলে শুনেছি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. দীবাকর বসাক বলেন, ‘২২ এপ্রিল আমাদের হাসপাতালে ভ্যাকসিন ছিল, কিন্তু কেউ চিকিৎসা নিতে আসেনি। এখন একটি টিম আহতদের খোঁজখবর রাখছে।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেন, নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে এবং আহতদের পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় কুকুরকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

গাইবান্ধা পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হানিফ বলেন, আমরা ১৬ তারিখ থেকে পৌর এলাকার কুকুরকে জলাতঙ্ক নিরোধ ভ্যাকসিন দিচ্ছি। এ পর্বে ৮৩০ টি কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এজন্য সিরাজগঞ্জ থেকে ১৮ জন এক্সপার্ট নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৫ জন করে ৯টি ওয়ার্ডে কাজ করছে। এসব ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এক বছর থাকবে। 

এসব কার্যক্রম কেন নিয়মিত করা হয় না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তো এক্সপার্ট নেই, প্রশিক্ষিত জনবল নেই। এসবের পরিকল্পনাও নেই। 

মূলত এগুলো কোনো দপ্তরের দায়িত্ব জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আইন অনুযায়ী পৌরসভা বিপদজনক প্রাণী নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে ২০১৩ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে কুকুর নিধন বন্ধ হয়ে যায়। আগে আমরা ঢাকা থেকে টিম নিয়ে এসে কুকুর নিধন করতাম। তারপর ৭/৮ বছর আগে প্রাণিসম্পদের কুকুর বন্ধ্যাকরণ একটি কার্যক্রম ছিল সেটিও বন্ধ রয়েছে। সরকার যখন যাকে এটির দায়িত্ব দেবে দায়িত্ব তারই।

এ সম্পর্কে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মাসুদার রহমান বলেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের সুরক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা, অন্যথায় সম্ভব নয়। কয়েকটি কুকুরকে ভ্যাকসিন দিয়ে ফটোশেসন করে কোনো সফলতা আসবে না। পৌরসভায় ভ্যাকসিন করবেন, গ্রামের কুকুর আবার মিশে যাব। এটি অনেক জটিল প্রক্রিয়া। এটি সফল করতে চাইলে স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের সমন্বয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, সরকারি প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। দেশের প্রতিটি এলাকায় একযোগে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। 

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান (এমপিএইচ) ঢাকা পোস্টকে  বলেন, জানা দরকার তারা সঠিক সময়ে এবং ঠিকমতো ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা। এটা জাস্টিফাই করা দরকার। সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। ভ্যাকসিনের বিষয়টি সিটি কর্পোরেশন এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয় দেখেন। তাদের টিমও আছে। ভ্যাকসিনগুলোর মেয়াদ কিংবা কার্যকারিতা ছিল কি-না সেটাও দেখা দরকার।

কেমন আছেন আহতরা

ঘাতক কুকুরটি প্রথম কামড় দেয় ইউনিয়নের ৬নং ওযার্ডের সতীরজান গ্রামের আমিনুল ইসলামকে (৫৫)। তিনি জানান, পাশের বাড়িতে গিয়ে কুকুরটি তার ওপর আকস্মিকভাবে তার ওপর হামলে পড়ে। তার হাতে, পেটে ও বুকে কামড় দেয়। 

তিনি বলেন, সুস্থ হলেও শরীরে আগের মতো আরাম নেই, অস্বস্তি লাগে। সব চেয়ে বড় বিষয় মৃত্যুর আতঙ্ক।

৪নং ওয়ার্ডের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিতু আক্তারের মা রুমি বেগম বলেন, প্রচন্ড ভয় লাগে আমাদের। অনেকে অনেক কথা বলেন, টিকাও নিলাম মানুষও মারা গেল। বাচ্চাটার জ্বরও ছাড়ে না।

৬নং ওয়ার্ডের আহত সুবন চন্দ্র বর্মণের মা শ্রী মতি মিনা রানী বলেন, ছেলেটা সুস্থ আছে কিন্তু ওর সর্দি ভালো হচ্ছে না। মাঝে মাঝে জ্বর আসে আর পেট ব্যথা করে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ মে পর্যন্ত শুধু এই হাসপাতালেই কুকুর ও বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে অ্যান্টি-র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়েছেন ২ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে শুধু ২২ এপ্রিল একদিনেই টিকা নিয়েছেন ১৬৪ জন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৩০ জন মানুষ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা নিতে আসেন। তবে গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে আরআইজি টিকার সরকারি সরবরাহ নেই।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন