• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক নিয়মিত অনুপস্থিত, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৩৪ পিএম;
অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক নিয়মিত অনুপস্থিত, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার বেতাগী উপজেলার করুনা হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।

এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহসান উল্লাহ নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে তাঁর দাপ্তরিক কাজ সহকারী শিক্ষক জসিমউদদীনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। তাঁর ছোট ভাই ও একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান ফেরদৌস মাদ্রাসায় উপস্থিত হলেও দুপুরের আগেই চলে যান। এরপর তিনি নিজের ফার্মেসির ব্যবসা পরিচালনা ও রোগী দেখার কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া মাদ্রাসার করণিক মাওলানা শাহ আলম নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে সময় দেন এবং তাঁর ছেলে বেল্লাল হোসেনকে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সরেজমিনে মাদ্রাসায় গিয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা আহসান উল্লাহ, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান ফেরদৌস ও করণিক মাওলানা শাহ আলমকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার এক পিয়ন জানান, অধ্যক্ষ অসুস্থ থাকায় চিকিৎসকের কাছে গেছেন। আরিফুর রহমান ফেরদৌস তাঁর সঙ্গে গেছেন এবং শাহ আলম ছুটিতে রয়েছেন। তবে তাঁদের অনুপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে প্রতিষ্ঠানের পিয়নসহ একাধিক শিক্ষকের কাছে অধ্যক্ষের মুঠোফোন নম্বর চাওয়া হলে তাঁরা নম্বরটি দিতে পারেননি।

পরে সহকারী শিক্ষক জসিমউদদীন এলে তাঁর কাছে নম্বরটি চাইলে তিনি তা মুখস্থ বলে দেন। অধ্যক্ষের নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান ফেরদৌসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগেই বাসায় এসেছি।’ ক্লাস চলাকালে তিনি কেন বাসায় গেছেন, জানতে চাইলে তিনি লেইজারে বাসায় যাওয়ার কথা জানান। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে ওই সময় মাদ্রাসায় পাঠদান চলমান ছিল এবং তিনি ঐদিন আর মাদ্রাসায় আসেননি।

করণিক মাওলানা শাহ আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁর ছেলে বেল্লাল হোসেনকে প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে দেখা যায় বলে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। তবে বেল্লাল হোসেনের নিয়োগ বা পাঠদানের অনুমোদনসংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার এক সহকারী মৌলভীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে সহকারী শিক্ষক জসিমউদদীন দাপ্তরিক কাজ সামলান। আরিফুর রহমান ফেরদৌসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে ফার্মেসির ব্যবসা ও রোগী দেখার কথাও বলেন তিনি। এ ছাড়া করণিক শাহ আলমের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত মামলা-মোকদ্দমার কাজে ব্যস্ত থাকা এবং তাঁর ছেলেকে দিয়ে পাঠদান করানোর অভিযোগও করেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিতি, নির্ধারিত সময়ে পাঠদান এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিহাদ হাসান বলেন,বিষয়টি আমি শুনেছি। মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার কোন সুযোগ নাই। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি সাথে কথা বলেছি।

তদন্ত স্বাপক্ষে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক ছাড়া বহিরারাগত কোন লোকের ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়ার সুযোগ নেই। করুনা হাসানিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কি করে নিজ ক্ষমতা বলে বহিরারাগত একটি ছেলেকে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ক্লাশ পরিচালনা করাচ্ছেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি ও বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা ও ক্লাস ফাকি দিয়ে অন্যকোন পেশায় কাজ করার কোন সুযোগ নেই। আমি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে অধিদপ্তরে চিঠি দিব।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন