• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ট্রিলিয়ন ডলারের দেশে পরিণত করতে ১০ খাতকে অগ্রাধিকার


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৫১ পিএম;
ট্রিলিয়ন ডলারের দেশে পরিণত করতে ১০ খাতকে অগ্রাধিকার

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নির্ধারিত পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩৪ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে জনমিতিক সুবিধা, দীর্ঘায়ু জনসংখ্যা এবং গণতান্ত্রিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকার ঘোষিত ১০টি অগ্রাধিকারের প্রথমটি হলো সবার জন্য উন্নয়ন। এর মাধ্যমে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন অর্থনীতি গড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

তৃতীয় অগ্রাধিকার হলো সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা। জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

চতুর্থ অগ্রাধিকার হিসেবে বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষিকে খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চম অগ্রাধিকার হিসেবে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম সহজীকরণ, জটিলতা কমানো এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ষষ্ঠ অগ্রাধিকার হিসেবে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সপ্তম অগ্রাধিকার জ্বালানি নিরাপত্তা। উৎপাদন সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অষ্টম অগ্রাধিকার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক আইসিটি রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নবম অগ্রাধিকার পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দশম ও শেষ অগ্রাধিকার হলো স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকীকরণ এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর পথ আরও সুগম হবে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন