চীন সফরে কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে সময়োপযোগী
সংসদে আলতাফ হোসেন চৌধুরী—চীন সফরে কূটনৈতিক সাফল্যের প্রশংসা, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেটকে সময়োপযোগী আখ্যা।।
নজরুল ইসলাম আলীম :
সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে দেশের ‘বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার’ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি রচনার একটি বাস্তবমুখী ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মতো প্রতিকূল বাস্তবতার মধ্যেও সরকার যে বাজেট প্রণয়ন করেছে, তা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেছে। কাবিখা, কাবিটা, টিআর, ভিজিএফ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান, ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, পাদ্রী ও ভান্তেদের ভাতা, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন ও প্রতিবন্ধী ভাতা, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগগুলোকে তিনি সরকারের জনমুখী নীতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।আলতাফ হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। বিশেষ করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সফরের সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সংসদ ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান তিনি।সংসদ সদস্য আরও বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্য অতীতে রাজনৈতিক নির্যাতন, মামলা ও কারাবাসের মতো প্রতিকূল অভিজ্ঞতা অতিক্রম করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সংসদে এসেছেন। ফলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও সংসদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে।বিশ্লেষণ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্যে বাজেটের অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। একদিকে তিনি বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের রূপরেখা হিসেবে তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে সরকারের চার মাসের কর্মকাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরকে একই ধারাবাহিকতায় উপস্থাপন করে সরকারের সামগ্রিক নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রস্তাবিত বাজেট দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাস্তব অবদান রাখতে সক্ষম হবে।সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, সরকার প্রস্তাবিত বাজেটকে শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের একটি সমন্বিত কৌশল হিসেবেই তুলে ধরতে চায়। এখন বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঘোষিত লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়, সেদিকেই থাকবে দেশবাসীর প্রধান নজর।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: