মহম্মদপুরে মাদককারবারীদের হামলায় মহিলাসহ পাঁচজন গুরুতর আহত
মাগুরা জেলা প্রতিনিধি :
মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় মাদককারবারীদের হামলা ও চাইনিজ কুড়ালের কোপে নারীসহ ৫জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের হরেকৃষ্ণপুরে প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রির প্রতিবাদ করায় নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হরেকৃষ্ণপুর বাজারের উত্তর পাশে স্থানীয় একটি বাড়ির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় চাইনিজ কুড়াল, রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ফরিদ মোল্যাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় মামলা হওয়ার পর একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আহতরা হলেন মোছা. রাফেজা (৩০), মো. আহাদ মিয়া (২৮), মো. ফরিদ মোল্যা (৫০), মো. মিরাজ (৪৬) ও আরমান হোসেন (২২)। তাদের মধ্যে ফরিদ মোল্যার মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। অন্য আহতদের মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হরেকৃষ্ণপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, হরেকৃষ্ণপুর এলাকার কাসেম খান ও তার বড় ভাই বদিয়ার খানের বিরুদ্ধে বাজার এবং বাড়ির সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় হরেকৃষ্ণপুর বাজারে আমিনুর রহমান (৩০) নামে এক যুবককে দুই পিস ইয়াবাসহ স্থানীয়রা আটক করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনার পর এলাকায় মাদক বিক্রি বন্ধে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফরিদ মোল্যা তার প্রতিবেশী মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর মাদক বিক্রি বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরাও একই রাস্তা দিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিল তাদের মাদক বিরোধী কথা শুনে কাসেম ও বদিয়ার সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফরিদ মোল্যার বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ফরিদ মোল্যা তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন।
স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পরিবারের নারী সদস্যরাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাফেজা খাতুনের দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। মিরাজুল ইসলামকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হলে তিনি মাথা সরিয়ে নেন। এতে কোপটি তার মাথার পেছনের ডান পাশে লাগে বলে জানা গেছে। একই সময় আহাদ মিয়া ও আরমান হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে আহত করে।
হামলার একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন আহতদের স্বজনরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ফরিদ মোল্যার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার পর হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে হামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। মাদক বিক্রি বন্ধে কার্যকর অভিযান ও নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় ফরিদ মোল্যার স্ত্রী মোছা. শিমু বাদী হয়ে মহম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাসেম খান, বদিয়ার খান, আলামিন খান, বনি আমিন খান, নুর আলী খান, আইয়ুব খান ও সিরাজুল ইসলাম ওরফে ছিকু মোল্যাসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম. শামিম আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: