বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে চালককে মারধরের অভিযোগ
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের বিরুদ্ধে গাড়ি চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। চোখে কিল, ঘুষি ও চড়থাপ্পড়ে আহত হয়েছেন মো. আলী হোসেন বাচ্চু।
রোববার (২৩ অগাস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক সোহেল রানার খাস কামরায় এ ঘটনা ঘটে মর্মে জানিয়েছেন আলী হোসেন বাচ্চু। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে জানানো হয়, এমন কোনো ঘটনায় ঘটেনি।
বাচ্চু বলেন, ‘আমি এক বছর ১০ মাস যাবৎ কাজ করি। আমার আগের স্যার ছিলেন, সাবের খানম। উনি ট্রান্সফার হয়ে যাওয়ার পর এই স্যার আসেন। আজকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারকের পিয়ন ফোন দেয় যে স্যার ডাকছে। আমি লগবই নিয়ে যাই। তখন বিচারক সোহেল রানা লগ বইতে সময় বের করে বলে এখানে সময় ৭টা কেনো লিখছো। তখন আমি বললাম, স্যার, আপনি ৮টার সময় গাড়িতে উঠেন। ৭টার সময় যদি গাড়িতে না পৌঁছায় তাহলে গাড়ি ধোঁয়া মোছা পরিষ্কার কিভাবে করব। একথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমার চোখের উপর ঘুসি মারেন। কানের ওপরে থাপ্পড় মারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর তার পিয়ন আমার হাত ধরে টান মেরে সরিয়ে দেয়। পরে একটা লাথি মারে যেটা আমার গায়ে লাগেনা। এরপর আমাকে গালিগালাজ করে। বের করে দেয়ার পর আমার চোখ দিয়ে পানি পরে চোখ ফুলে যায়।’
বাচ্চু বলেন, ‘আমি এখানে এক বছর দশ মাস পর্যন্ত চাকরি করি। সে আমাকে বাদ দিয়ে গান ম্যান দিয়ে গাড়ি চালায়। সে গাড়িতে অনৈতিক, খারাপ কার্যক্রম করে। এগুলো আমি দেখব, সেজন্য আমাকে মোটেও সহ্য করতে পারে না। এজন্য গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালায়। সরকারি যেকোনো গাড়িতে মাসে ১৮০ লিটার তেল বরাদ্দ থাকে। সেই তেল তিনি প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ লিটার দিয়ে, বাকিটা টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়। আমি এগুলো হিসাব দেখাবো কিভাবে? এগুলো বলায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এজন্যই মন কষাকষি হয় দেখতেই পারে না। আজকে আমার সাঙ্গে যা হলো তার ন্যায় বিচার চাই।’
প্রয়োজনে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- ৪ এর বিচারক আব্দুর রহিম বলেন, ‘উনি অসুস্থ অবস্থায় আমাদের কাছে আসেন। পরে তাকে একজনের সাথে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।’
ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাচ্চু। সেখানে থেকে তার এক চোখে ব্যান্ডেজ করে দেয়া হয়।
বিচারকের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের ইশতিয়াক হোসেন জনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন যাবৎ বাচ্চু গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন না। আজ বিচারক তাকে খাস কামরায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, গাড়ী পরিষ্কার করেন না কেন? বাচ্চু জানান, তিনি গাড়ি পরিষ্কার করতে পারবেন না। পরে বিচারক তাকে ধমকায়ে বের করে দেন। মারধরের কোনো ঘটনায় ঘটেনি।’
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: