• ঢাকা
  • সোমবার, ২৪ আগষ্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

৩৪০০ টাকায় বড় ভাইকে হত্যার চুক্তি, ছোট ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগষ্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:০৮ পিএম;
৩৪০০ টাকায় বড় ভাইকে হত্যার চুক্তি, ছোট ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

৩৪০০ টাকায় বড় ভাইকে হত্যার চুক্তি, ছোট ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাত্র ৩ হাজার ৪০০ টাকার বিনিময়ে হত্যা করা ফারুক শেখকে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাইসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা দা, রক্তমাখা পোশাক, মোবাইল ফোন ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত ফারুক শেখের (৪৬) ছোট ভাই বারেক শেখ এবং তাঁর দুই সহযোগী আলমগীর হোসেন ও রুবেল শেখ। পুলিশ জানায়, ফারুককে হত্যার জন্য বারেক তাঁর দুই সহকর্মীকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ করেন।

পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ এবং জীবদ্দশায় সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ফারুককে হত্যার পরিকল্পনা করেন বারেক। হত্যার জন্য মোট ৩ হাজার ৪০০ টাকার চুক্তি করা হয়। এর মধ্যে হত্যার আগে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং হত্যার পর ১ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল।

গতকাল ২২ আগস্ট দুপুর পৌনে ১টার দিকে গোয়ালন্দঘাট থানার জামতলা এলাকায় নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে ফারুক শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে তাঁর বাবা মো. খালেক শেখ বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলা হওয়ার পর গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ দাবি করে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেলকে দুটি ধারালো দা দেন বারেক।

পরে তাঁরা ফারুকের বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান।

তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ গোয়ালন্দঘাট থানার দৌলতদিয়া এলাকার নিজ নিজ বাড়ি থেকে আলমগীর ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ময়লার স্তূপ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া রক্তমাখা গেঞ্জি ও প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং একটি মাস্কসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন