ফরিদপুরে মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফরিদপুরের সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অপর এক আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুর ২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চর দূর্গাপুর গ্রামের সুমন মোল্যা (১৯) এবং একই গ্রামের ওসমান বেপারী (২৯)।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মাদ্রাসার ছাত্রী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করত। মোবাইল ফোনের এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়।২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর বিকালে ওই যুবকের সাথে দেখা করতে গোয়ালন্দ ঘাটে যায়, তাকে না পেয়ে ভিকটিমের চাচাতো ভাইকে ফোন করে। তার ভাই তাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ১নং ও ২নং আসামী ভিকটিমের ভাইকে ফোন করে তাদের বাড়িতে আসতে বলে। রাত ১১.৩০ ঘটিকার সময় ফরিদপুর শহরের ভাটি লক্ষীপুর এলাকা সৈয়দ ফকিরের আসামিদের ভাড়াটিয়া বাড়িতে আসেন এবং রাত্রি যাপন করেন। ১ নং আসামি সুমন মোল্লা পরের দিন সকালে বিক্রমের ঘরে প্রবেশ করে তাহার ছবি মোবাইলের ছড়িয়া দেয়ার কথা বলে হুমকি প্রদান করে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে পরবর্তীতে ২নং আসামিও তাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা মামলা দায়ের করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভুঁইয়া রতন বলেন, আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: