দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন
রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় ওয়াকফ সম্পত্তির প্লট মালিকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি থেকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, কথিত দালাল ও ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত জমি বরাদ্দ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া প্লট মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাদের দাবি, এ সম্পত্তিতে আবুল কালাম আনসারী জামাল বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু জমির আইনগত অবস্থান ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্লট মালিকদের অভিযোগ, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আদালতের নির্দেশনা ও জমি নিয়ে আইনি বিরোধ চলমান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে নির্মাণকাজ, জমির কাঠামোগত পরিবর্তন এবং প্লট দখল ও হস্তান্তরের তৎপরতা চলছে। এতে প্রকৃত প্লট মালিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মামলা নং ১৫২১/২০২১ চলমান রয়েছে। প্লট মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটিতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণ, দখল কিংবা কাঠামোগত পরিবর্তন করা হলে তা আইনগতভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে ড্যাফোডিল মান্নান ও মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধেও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তোলা হয়। প্লট মালিকরা বলেন, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ দেওয়া হলেও কথিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এদিকে ইমন নামে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন মানববন্ধনকারীরা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৯০ কাঠা জমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্লট মালিকদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ভবনে নির্মাণকাজ চলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের মামলা নং ৬২/২০২৪-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের ভাষ্য, এ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বরাদ্দ প্রক্রিয়ারও তদন্ত দাবি করা হয়। বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় কেউ জোরপূর্বক জমি দখল, নির্মাণকাজ, প্লট হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করলে তার সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত মালিকানা, ওয়াকফ সম্পত্তির আইনগত অবস্থান এবং আদালতের আদেশ যাচাই করে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে ভূমি দখল, কথিত দালালচক্রের তৎপরতা ও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: