• ঢাকা
  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেবেন, তারেক রহমান


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:২৯ এএম
কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নেবেন, তারেক রহমান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে সবাই লাইন দিয়ে দাঁড়াবেন। ভোট শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়া শুরু করবেন। কিন্তু ভোট দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চলে এলে চলবে না; কেন্দ্রে থাকতে হবে। কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব বুঝে নিতে হবে। 

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠে এক বিরাট নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় মঞ্চে ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরাসহ চার জেলার নেতা এবং কেন্দ্রীয় নেতারা।

তারেক রহমান বলেন, ‘ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার অনেক বড় সমস্যা হচ্ছে মানুষের চিকিৎসা সমস্যা। আমরা ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলাগুলোর হাসপাতাল আরো বড় করতে চাই। একইভাবে হেলথকেয়ারের অ্যাপয়েন্ট করতে চাই। শিশু ও মা-বোনরা চিকিৎসার জন্য অনেক সময় হাসপাতালে যেতে পারে না। আমরা চাই, তারা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে। সে জন্যই আমরা চিকিৎসাব্যবস্থাকে উন্নত করতে চাই। আমরা চিকিৎসাব্যবস্থা ঘরের দ্বারে পৌঁছে দিতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, নেত্রকোনা, শেরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক সমস্যা আছে। আমরা এই মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদের সেই তরুণদের, সেই যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, কর্ম থাকবে, চাকরিবাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য কমবেশি থাকবে, তখন মানুষ এগুলোর মধ্যে যাবে না।  

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ময়মনসিংহ জেলা অন্যতম কৃষিপ্রধান জেলা। আমাদের এখানে অনেক খাল-বিল ছিল। এই খাল-বিলগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এই খাল-বিলগুলো আমরা পুনর্খনন করতে চাই। ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। তাহলে বিএনপি সরকার গঠন করলে এই যে কথাগুলো বললাম, এই কাজগুলো যদি করা হয়, আপনারা কি মনে করেন আপনারাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবে?’ উপস্থিত লোকজন তখন ‘হ্যাঁ’ মন্তব্য করে।

এ সময় তারেক রহমান ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এই ২৪ জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম এই চার জেলার উন্নয়নের জন্য। এঁদের জিতিয়ে আনতে পারলে দেশের উন্নয়ন করতে পারব।’ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি (দক্ষিণ) জেলার আহ্বায়ক এবং ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলু। সভা পরিচালনা করেন ময়মনসিংহ (সদর-৪) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের বিএনপিদলীয় প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার এবং ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রুকনুজ্জামান সরকার রুকন। বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ 

প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওয়ারেছ আলী মামুন, ব্যারিস্টার কায়ছার কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন।

দীর্ঘ বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি জানি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর—এই অঞ্চলগুলোয় বহু সমস্যা। নদীভাঙনের সমস্যা আছে। কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ব্রিজ, স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট ও কালভার্টের সমস্যা রয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘ময়মনসিংহের জেলাগুলোয় কৃষকদের অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে কী করে এ সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি। আমরা রাজনীতি করি কাদের জন্য? বাংলাদেশের মানুষের জন্য। আজ এই যে নির্বাচনী জনসভা, এতে আমরা কী দেখি? অনেক দল আছে, যারা এসে অন্য দল সম্পর্কে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে। আজ যদি আমি দাঁড়িয়ে আপনাদের সামনে অন্য দল সম্পর্কে অন্য রকম 

কথা বলি, তাদের গিবত গাই, তাদের সম্পর্কে সমালোচনা করি, তাতে কি জনগণের কোনো লাভ হবে? জনগণের কোনো লাভ হবে না। কারণ জনগণ তাকেই ভোট দেবে যারা জনগণের জন্য কাজ করবে। তাহলে অবশ্যই একটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পনা থাকতে হবে। পরিকল্পনা থাকতে হবে কিভাবে দেশ পরিচালনা করবে। কিভাবে কী কী কাজ করবে জনগণের জন্য, সেই পরিকল্পনা থাকতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপির বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলত, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে। তাদের বক্তব্য হলো বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুজন মন্ত্রী বিএনপি সরকারে ছিল। বিএনপি যদি এতই খারাপ হয় তাহলে ওই দুজন পদত্যাগ করেনি কেন?’ 

ভালুকায় হাজারো মানুষের শুভেচ্ছা : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহে যাওয়ার পথে ভালুকা এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়।

ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলীয় নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার উত্সুক জনতা ভালুকা সদরসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় এসে ভিড় জমায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে তারা উপজেলার মাস্টারবাড়ি, সিডস্টোর, হাজিরবাজার, ভালুকা, ভরাডোবা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যায়। এক পর্যায়ে তারেক রহমানকে বহনকারী লাল-সবুজ বাসটি ভালুকা এলাকার মাস্টারবাড়ি সীমান্তে পৌঁছলে কৌতূহলী জনতা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানায়। তারেক রহমানও হাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন। 

জয়দেবপুর লেভেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হবে : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যে অধিকারের জন্য ও গণতন্ত্রের জন্য হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছে, তাদের ত্যাগ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে। এখন আমাদের কাজ করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। গতকাল রাত ১১টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ি মাঠে এক বিশাল নিবার্চনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন ।  তিনি বলেন, বিএনপি আগামী নিবার্চনে ক্ষমতায় এলে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি করা হবে। খেটে খাওয়া মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার তৈরি করা হবে। স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে গাজীপুরের মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। তাই গাজীপুরের মানুষের দুর্ভোগের অন্যতম সমস্যা জয়দেবপুর  লেভেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারব্রিজ নির্মাণ করে যানজট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

জেলার প্রধান তিন নদী চিলাই, তুরাগ,  লবণদহ খাল দূষণে ভরাট হয়ে গেছে। এগুলো খনন করা হবে। শ্রমিকদের আবাসন সমস্যার সমাধান করা হবে।

উত্তরার সমাবেশে গ্যাস ও পানি সমস্যার সমাধানে
গুরুত্বারোপ : 
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘গুম-খুন হওয়া মানুষদের স্বজনরা আমার পাশে একটা ছোট মঞ্চে বসে আছেন। মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে তাঁরা গুম-খুন হয়েছেন।’ 

তিনি বলেন, ‘আজকে একটি পরিবর্তনের ধারা এসেছে। এই পরিবর্তন ভোটের অধিকারের জন্য। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আর কেউ আমাদের স্বজনদের কেড়ে নিতে পারবে না।’ 

ময়মনসিংহ ও গাজীপুরে সমাবেশ শেষে গতকাল রাত ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা আজমপুরে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এলাকার মানুষের কী কী সমস্যা আছে, এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রধান সমস্যা গ্যাস। এটা সারা দেশের সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আরেকটি সমস্যা পানিসংকট। ওপারে বাঁধ দিয়ে আমাদের পানির সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। তাই আমাদের খাল খনন করতে হবে। খাল খনন করে পানির সমস্যা সমাধান করতে হবে।’

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন