বাবা হারানো মেসিকে শক্ত থাকার বার্তা দিলেন রোনালদো
কয়েকদিন আগে প্রাণপ্রিয় বাবাকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। শোকে আচ্ছন্ন এই ফুটবলার এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে উদ্দেশ্য করে একটি আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছেন। সেখানে কমেন্ট করে মেসিকে শক্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন ইতিহাসের আরেক সেরা ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
গত শনিবার ৬৮ বছর বয়সে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিতে ক্লাব ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে এখন আর্জেন্টিনার রোজারিওতে অবস্থান করছেন মেসি। এমন বেদনাবিধুর সময়ে বাবার প্রতি নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে বুধবার ইন্সটাগ্রামে একটি চিঠি পোস্ট করেছেন তিনি।
৩৯ বছর বয়সী মেসির লেখা চিঠি তার ভক্ত-সমর্থকদের পাশাপাশি আবেগাপ্লুত করেছে রোনালদোকেও। তিনি কমেন্ট করেছেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমাকে ও তোমার পরিবারকে প্রতি আন্তরিক আলিঙ্গন থাকল, লিও। শক্ত থেকো।’
দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হোর্হে। জীবনের শেষ মাসগুলো তিনি রোজারিওর একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও নিজের বাড়িতে থাকার মধ্য দিয়ে কাটান। এসময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী সেলিয়া এবং তিন সন্তান রদ্রিগো, মাতিয়াস ও মারিয়া সোল। সবশেষ বিশ্বকাপের পর মায়ামিতে যোগ দেওয়ার আগে বাবার সঙ্গে কয়েকদিন সময় কাটিয়েছিলেন মেসি।
বাবাকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে গিয়ে মেসি জানিয়েছেন, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চিঠিতে লিখেছেন, ‘বাবা, তুমি চলে গিয়েছ— এখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এখনও আমার কাছে এটা বাস্তব মনে হচ্ছে না কিংবা হয়তো আমি মানতেই চাইছি না। এটা ভাবা আমার জন্য খুব কঠিন যে, তোমাকে আর কখনো দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে আর কথা বলতে পারব না। আমি জানি, তুমি কষ্ট পাচ্ছিলে এবং এটাই হয়তো ভালো হয়েছে। কিন্তু তুমি খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের একসঙ্গে উপভোগ করার মতো আরও অনেক কিছু বাকি ছিল।’
ভক্তরা ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো ও মেসিকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখেন। কিন্তু তারা দুজন সব সময়ই পরস্পরকে সম্মান দিয়ে এসেছেন। বাবার মৃত্যুর পর মেসি যখন ভীষণ কঠিন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তখন তাদের মধ্যকার এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
নিজের বাবাকে রোনালদো হারিয়েছেন অনেক আগে। ২০০৫ সালে ৫২ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তখন রোনালদোর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। ফলে এই শোকের গভীরতা কতটা, তা জানা আছে তার।
কৈশোরে আর্জেন্টিনা ছেড়ে স্পেনের বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর প্রথম দিকের বছরগুলো থেকে শুরু করে ছেলের পুরো ক্যারিয়ারেই ছায়ার মতো নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন হোর্হে। মেসির অত্যন্ত ভরসার জায়গা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। বেশ কয়েক বছর ধরে মেসির এজেন্ট হিসেবেও দেখা গিয়েছিল তাকে।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বাবার প্রভাব নিয়ে এর আগে মেসি বলেছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার সব সময় বাবার অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। প্রতিটি ম্যাচের পরই আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম, আমার খেলা তার কাছে কেমন লেগেছে।’
রোজারিওর কাছে পেরেজ শহরের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে মেসির বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেই অনুষ্ঠানে মেসির পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের ছাড়া তেমন কাউকেই উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। পরিবারের পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরা পিছিয়ে দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা মেসি। ফলে মায়ামির জার্সিতে তাকে খেলতে দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ফুটবলপ্রেমীদের।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: