লালমনিরহাটে সাংবাদিকের উপর বিএনপি নেতার হামলা, হত্যার হুমকি
খাজা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাটে দৈনিক দাবানল পত্রিকার প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, লালমনিরহাট জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক সাংবাদিক রাসেল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা রশিদুল ইসলাম ও তার ছেলে শামীম মিয়ার বিরুদ্ধে। হামলার সময় ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রশিদুল ইসলাম ও তার ছেলে শামীম মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিক রাসেলের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করছেন এবং তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারছেন। একপর্যায়ে রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে, লালমনিরহাট রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেওয়া রশিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে এবং নিজে মোবাইল ফোনে সাংবাদিক রাসেলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কখনো ৫০ হাজার, আবার কখনো ৭৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে শারীরিক ক্ষতি, হত্যা এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় রশিদুল ইসলাম ও তার ছেলে শামীম মিয়া বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চে নিউজ লেখার সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে রশিদুল, শামীমসহ ১০ থেকে ১২ জন সেখানে আসেন।সাংবাদিক রাসেলের অভিযোগ, তারা এসে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রশিদুল ও শামীম তার শার্টের কলার ধরে গালিগালাজ শুরু করেন। পরে তারা ও সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।ঘটনার সময় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আশপাশের লোকজন ও সাংবাদিকের সহকর্মীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা সরে যায়। পরে আহত অবস্থায় রাসেল ইসলামকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাসেল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ে মুক্ত মঞ্চে বসে নিউজ লিখছিলাম। এ সময় রশিদুল ও তার ছেলে শামীমসহ কয়েকজন এসে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার শার্টের কলার ধরে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। পরে সহকর্মীরা এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।’অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রশিদুল নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জুয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, হামলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রশিদুল ইসলাম ও তার ছেলে শামীম মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে, তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: