• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

১ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এআইনির্ভর হচ্ছে এপিক গেমস


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০১:১৪ পিএম;
১ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এআইনির্ভর হচ্ছে এপিক গেমস

ভিডিও গেম তৈরির পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ‘ফোর্টনাইট’-এর নির্মাতা এপিক গেমস। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসেবে গেমের কোড লেখা থেকে শুরু করে শিল্পকর্ম তৈরিতেও এআইনির্ভর পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ডিজনি-সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও গেম প্রকল্পের উন্নয়নকাজে কর্মীদের ‘এআই ফার্স্ট’ পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে ক্লডের মতো এআই টুল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পটির এক পরিচালক কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক স্মারকে লিখেছেন, ‘আর হাতে লেখা কোড নয়।

’ অর্থাৎ, কোড লেখা ও অন্যান্য উৎপাদনমূলক কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়বে। মানুষের ভূমিকা থাকবে মূলত এআইয়ের কাজ পরিচালনা, তদারকি ও নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে। একই সঙ্গে গেমটির সব শিল্পকর্ম এআইনির্ভর প্রক্রিয়ায় তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

 

ডিজনি ও মার্ভেল-সংশ্লিষ্ট গেমে এআই

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিজনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গেম প্রকল্পটি একটি শুটিং গেম হতে পারে।

এতে মার্ভেল ও স্টার ওয়ার্সের চরিত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গেমটি চলতি বছরের মার্চে প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন প্রকাশের তারিখ পরে ঘোষণা করা হতে পারে।

এপিক গেমসের এ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটির এআই ব্যবহারে আরো বিস্তৃত পরিবর্তনের অংশ। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী টিম সুইনি এ পরিবর্তনকে এআইয়ের দিকে বড় ধরনের অগ্রযাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এআইয়ের ব্যবহার আরও বাড়াতে এবং এর সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে কর্মীদের কাজের ধরন ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

তবে এআই ব্যবহারের উদ্দেশ্য কর্মী ছাঁটাই নয় বলে দাবি করেছেন সুইনি। তিনি জানান, কম কর্মী দিয়ে একই কাজ করানো নয়, বরং কর্মীদের আরও বেশি ও উন্নত কাজ করার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। একই সঙ্গে আনরিয়েল ইঞ্জিন ব্যবহারকারী বিভিন্ন দলের কাজেও এআইয়ের সুবিধা ছড়িয়ে দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

কর্মীদের মধ্যে বিস্ময়

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ভিডিও কলে এআইনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থার বিষয়ে ঘোষণার পর এপিক গেমসের কয়েকজন কর্মী বিস্মিত হন। এআই দিয়ে তৈরি কোডে ভুল হলে তা কীভাবে সংশোধন করা হবে, তা নিয়েও কর্মীদের মধ্যে আলোচনা হয়। কেউ কেউ এ সিদ্ধান্ত থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরে আসতে পারে বলেও আশা করেছিলেন।

সুইনি অবশ্য বলেছেন, এপিক গেমস একা এ পথে হাঁটছে না। এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে এবং দ্রুত উন্নত কোড ও কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের কাজের পদ্ধতি পরিবর্তন করছে।

১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল এপিক

এ বছরের মার্চে প্রায় ১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে এপিক গেমস। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ চাকরি হারান। কোম্পানির ব্যয় কমানো এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে ৫০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

এদিকে প্রযুক্তি খাতে এআই দিয়ে কোড লেখার প্রবণতা বাড়ছে। এর আগে ওপেনএআই ও উবারের পক্ষ থেকেও অভ্যন্তরীণ কাজে এআই দিয়ে অধিকাংশ কোড লেখার কথা জানানো হয়েছিল। তবে এআই টুল ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান আবার নিজেদের তৈরি এআই ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।

এপিক গেমসের নতুন উদ্যোগে গেম তৈরির কাজে মানুষের ভূমিকা কীভাবে বদলাবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে গেম উন্নয়নে কোড লেখা, শিল্পকর্ম তৈরি ও অন্যান্য উৎপাদনমূলক কাজে এআইয়ের ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন