• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

লালন উৎসবে কুষ্টিয়ায় ভক্ত-অনুরাগীদের ঢল, তিন দিনব্যাপী সাধুর হাট


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৩৩ পিএম;
লালন উৎসবে কুষ্টিয়ায় ভক্ত-অনুরাগীদের ঢল, তিন দিনব্যাপী সাধুর হাট

বিশেষ প্রতিনিধি :

 

মরমি সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব ও সাধুর হাট। শনিবার থেকে সোমবার (১৭-১৯ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানের আজ ছিল সমাপনী দিবস।
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে লালন আখড়াবাড়ি পরিণত হয়েছিল সাধু-গুরু, বাউল ও ভক্ত-অনুরাগীদের মিলনমেলায়। দেশ ও দেশের বাহির থেকে আসা লালনভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেলি আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ।
এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এবং কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আয়োজনে ১৭ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ উৎসবে লালনের মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও কালজয়ী সৃষ্টিকে স্মরণ করার পাশাপাশি সাধু-গুরুদের ভাববিনিময়, সাধুসঙ্গ ও লালনসংগীতের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয়েছে দিনটি।
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ঘিরে উৎসব শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেন বাউল সাধক ও ভক্তরা। আখড়ার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে তাঁরা গেয়েছেন সাঁইজির আধ্যাত্মিক মর্মবাণী ও দর্শনভিত্তিক গান। সাধুদের আসন ঘিরে চলেছে ভাব, ভক্তি ও দর্শন নিয়ে আলোচনা। 
প্রচলিত সাধুরীতি অনুসারে তিন দিনব্যাপী আয়োজনে ছিলো বাল্যসেবা, রাখালসেবা ও পুণ্যসেবা। শনিবার সন্ধ্যায় বাল্যসেবা, রোববার সকালে রাখালসেবা এবং দুপুরে পুণ্যসেবা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে লালনের সাধন-ভজনের ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চর্চা তুলে ধরা হয়েছে ।
উৎসব উপলক্ষে লালন আখড়াবাড়ির সামনে মরা কালী নদীর প্রাঙ্গণে বসেছিল গ্রামীণ মেলা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দুই শতাধিক স্টলে সাজিয়েছিলেন তাঁদের পসরা। মেলায় পাওয়া গেছে বিভিন্ন ধরনের লোকজ ও গ্রামীণ পণ্য, খাবারসহ নানা সামগ্রী। উৎসব ও মেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ।

উৎসবে আসা দর্শনার্থীদের অনেকে বলছেন, গতবারের তুলনায় এবারের আয়োজন তাঁদের কাছে আরও ভালো ও গোছানো মনে হয়েছে। বিশেষ করে লালনদর্শন ও সাধুসঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টি তাঁদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, উৎসবের পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে লালনের মানবতার বাণী সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই হবে তাদের দায়িত্ব।
 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন