• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

জিপিএফের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৩১ পিএম;
জিপিএফের ১০ কোটি টাকা জালিয়াতি, ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের (জিপিএফ) প্রায় ১০ কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে ওই কার্যালয়ে কর্মরত চার সাবেক উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও দুই অডিটরের বিরুদ্ধে জিপিএফ অগ্রিম বিলের নামে জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি অর্থের জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, ছয়জনের বিরুদ্ধে মোট ৯ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত চার সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হলেন- মীর এনামুল হক: মোরেলগঞ্জে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার ৪০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি তদন্তের সময় তিনি রামপাল উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সৌমেন সরকার: মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে জিপিএফের ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের সময় তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মদন কুমার দাস: মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ১২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি বাগেরহাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার হিসেবে কর্মরত।

হাসানুজ্জামান: মোরেলগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে জিপিএফ অগ্রিম বিলের বিপরীতে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয়ে অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার হিসেবে কর্মরত।

দুই অডিটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

শ্যামল কুমার দাস: ২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৫টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি তদন্তের সময় তিনি বাগেরহাটের মোংলায় কর্মরত ছিলেন।

রুবেল মোল্লা: ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২টি ভুয়া বিলের মাধ্যমে ২৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ টাকা জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তদন্তের সময় তিনি বাগেরহাটের শরণখোলায় কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির তদন্তে ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জিপিএফের অর্থ জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে।

আদেশে বলা হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তারা কেউ স্টেশন ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তদন্তের প্রয়োজনে যেকোনো সময় উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোরেলগঞ্জের কয়েকজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জিপিএফ থেকে ঋণ নিতে গিয়ে তাদের হিসাবের সঙ্গে গরমিল দেখতে পান। বিষয়টি নজরে এলে মোরেলগঞ্জ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী জিপিএফ হিসাবের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে চিঠি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, জিপিএফের অর্থের এ ধরনের লেনদেন সম্পর্কে তারা আগে কিছুই জানতেন না। ঋণ উত্তোলনের সময় হিসাব যাচাই করতে গিয়ে তারা গরমিল দেখতে পান। কোনো কোনো শিক্ষকের হিসাবে একই দিনে বড় অঙ্কের টাকা জমা ও উত্তোলনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে খুলনা ডিডিসিএ তামান্না ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন