• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে, মাদারীপুর থেকে কথিত ভিকটিম উদ্ধার


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৩৩ এএম;
অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে, মাদারীপুর থেকে কথিত ভিকটিম উদ্ধার

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

 

পাওনাদারদের ফাঁসাতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগে আঃ মান্নান প্যাদা (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দিয়ে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তিনি এ ঘটনা সাজিয়েছিলেন।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী থানাধীন তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল থেকে আঃ মান্নান প্যাদা কথিতভাবে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ছেলে মো. জসিম প্যাদা প্রথমে পটুয়াখালী সদর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১৪ আগস্ট ২০২২ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৬৫/১০৯ ধারায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, আঃ মান্নান প্যাদা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ও ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকার একটি বেদে পল্লী থেকে তাকে উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান প্যাদা জানান, ২০২০ সালে তালতলী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে তিনি ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে ভাতের হোটেলের ব্যবসা শুরু করেন। সেখানে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজে নিয়োজিত দুটি কোম্পানির শ্রমিকরা নিয়মিত খাবার খেতেন। কোম্পানিগুলো মাস শেষে খাবারের বিল পরিশোধ করত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই কোম্পানির কাছে হোটেল মালিকের প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার এবং ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। আত্মগোপনে যাওয়ার আগের দিন রাতে তিনি প্রথম কোম্পানির মালিকের বাসায় গিয়ে পাওনা টাকা চাইলে তাকে ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে তিনি পাওনাদার মুদি, মুরগি ও মাছ ব্যবসায়ীদের কিছু টাকা পরিশোধ করেন। বাকি টাকা পরিশোধ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদার পাওনাদারদের বাকি টাকা পরিশোধ করবেন বলে জানান। পরে দ্বিতীয় কোম্পানির ম্যানেজারের কাছেও পাওনা টাকা চাইলে তিনি জানান, পাওনা টাকার কিছু অংশ নুর আলম সিকদারকে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আঃ মান্নানকে জানানো হয়নি বলে পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন।

এরপর ম্যানেজার নুর আলমের পরামর্শে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন আঃ মান্নান। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ম্যানেজার দেখাশোনা করবেন এবং ফোনে যোগাযোগ রাখবেন—এমন আশ্বাস দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে নুর আলমের প্ররোচনায় আঃ মান্নান অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রথমে নিখোঁজের জিডি এবং পরবর্তীতে আদালতে মামলা করেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, তালতলী থেকে বাসে পটুয়াখালী ও পরে ঢাকা যান আঃ মান্নান। এরপর ট্রেনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কেবলা বাবার মাজার, কুমিল্লার বেলতলা সলেমান ল্যাংটা বাবার মাজার, চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার, ঢাকা ও যশোরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন। পরে বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজার, বাকেরগঞ্জের বারো আউলিয়ার মাজারসহ বিভিন্ন মাজার ও বেদে পল্লীতে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানায়।

একপর্যায়ে বরিশালে পরিচিত এক ধর্মের মেয়ের বাসায় এবং পরে মাদারীপুরে তার ভগ্নিপতির বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তার ছেলের মাধ্যমে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করে তাদের হয়রানি করা হয় বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে থাকার কারণে আঃ মান্নানের অবস্থান শনাক্ত করতে তাদের বেগ পেতে হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

উদ্ধারের পর আঃ মান্নান প্যাদাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সহযোগীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন