অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই সৌদি ফেরত জামাল মারা গেছেন
টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাতে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন মারা গেছেন। সোমবার ১৭ আগস্ট দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় ভাতিজির বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের বরাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জামাল উদ্দিন কালমেঘা এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
জামালের ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, অসুস্থ অবস্থায় জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনার পর তারা নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাও করানো হয়। গত শুক্রবার হাসপাতাল থেকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল।
শাহ আলম বলেন, সোমবার দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে জামাল মারা যান। তার ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পৌঁছানোর পর সবার সঙ্গে আলোচনা করে জানাজার ব্যবস্থা করা হবে।
জামাল উদ্দিনকে ঘিরে আলোচনার শুরু আগস্টের প্রথম দিকে। ১ আগস্ট গভীর রাতে তাকে কালমেঘা গ্রামের পৈতৃক ভিটার কাছাকাছি একটি রাস্তার পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা অসুস্থ অবস্থায় তাকে সেখানে দেখতে পান। পরে বৃষ্টি শুরু হলে তার ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আশ্রয় দেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। জামাল কিডনির সমস্যার কারণে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না বলে সে সময় তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন।
প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, জামাল দীর্ঘদিন আগে নিজের পৈতৃক এলাকা ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর সেখানে কাজ করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় অংশ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠাতেন।
তবে জামালের দেশে ফেরার সময় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। পরিবারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রায় আট মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। অন্যদিকে আগস্টের শুরুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের বরাতে বলা হয়েছিল, তিনি প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন। ফলে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট সময় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দেশে ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। তখন চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েনের অভিযোগ সামনে আসে।
জামালকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন তার স্ত্রী রিনা আক্তার। সে সময় তিনি দাবি করেন, কয়েক মাস আগেই জামালকে ডিভোর্স দিয়েছেন এবং রাতে তাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
ঘটনার পর জামালের ছেলে আবু রায়হানও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বাবাকে রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বাবার সঙ্গে এমন আচরণ ঠিক হয়নি বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অসুস্থ একজন মানুষকে এভাবে রাস্তায় রেখে যাওয়ার অভিযোগকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছিলেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন সে সময় জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
রাস্তায় অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর প্রকাশের প্রায় দুই সপ্তাহ পর মারা গেলেন জামাল উদ্দিন। জীবনের দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানো এই ব্যক্তির শেষ দিনগুলো কেটেছে নিজের পৈতৃক এলাকার ভাতিজির বাড়িতে, যেখানে তাকে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেছিলেন স্বজনরা
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: