• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

নামজারিতে ১০ গুণ টাকা আদায়ের অভিযোগ তহশিলদার অন্তরার বিরুদ্ধে, ভিডিও দেখেও সাফাই এসিল্যান্ডের!


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:০৭ পিএম;
নামজারিতে ১০ গুণ টাকা আদায়ের অভিযোগ তহশিলদার অন্তরার বিরুদ্ধে, ভিডিও দেখেও সাফাই এসিল্যান্ডের!

বিশেষ প্রতিবেদক:
ভূমি সেবা পেতে এসে প্রতিদিন প্রতারিত ও নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী জমি খারিজ বা নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত আইনি ফি সর্বমোট ১,১৭০ টাকা। অথচ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কোনো প্রকার আইনি তোয়াক্কা না করে সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে নামজারি প্রতি সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা চাঁদা ও ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। সরকারি সেবাকে ওপেন-সিক্রেট পকেটমারিতে পরিণত করা এই সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে 'অফিস খরচ' ও 'উপরি পাওনা'র নামে এক বেপরোয়া চাঁদাবাজ চক্র।

সাধারণ ভুক্তভোগীদের একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যতা উন্মোচনে অনুসন্ধানে নামে ‘দৈনিক পুনরুত্থান’-এর অনুসন্ধানী টিম। ছদ্মবেশে সরেজমিনে পরিচালিত এই অনুসন্ধানে চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জনাবা অন্তরা দেবনাথ কর্তৃক সরাসরি ঘুষের টাকা দাবি ও হাতেনাতে ১০ হাজার টাকা গ্রহণের নিরপেক্ষ অডিও-ভিডিও প্রমাণ সংগৃহীত হয়েছে।
ভিডিও রেকর্ডিংয়ে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি: "এসিল্যান্ড অফিসের নামেও দিতে হয় ৩ হাজার টাকা" দৈনিক পুনরুত্থানের সংগৃহীত আনকাট ডিজিটাল প্রমাণের ফুটেজে দেখা যায়, নামজারির ফাইল এগোতে নির্ধারিত সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ আটকে রাখার স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়। কেবল তা-ই নয়, ধারণকৃত ভিডিওতে তহশিলদার অন্তরা দেবনাথের মুখে বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে। প্রাপ্ত রেকর্ডিং অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন—নামজারির প্রতি ফাইল পাস করানোর বিনিময়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড অফিসের নামেও নাকি নগদ ৩ হাজার টাকা পৌঁছে দিতে হয়! সরকারি অফিসের নাম ভাঙিয়ে এমন চাঁদাবাজির ভিডিও চিত্র এখন অনুসন্ধানী টিমের হেফাজতে রয়েছে।
প্রমাণ দেখেও অপরাধ ঢাকার চেষ্টা: এসিল্যান্ড সজিব মিয়ার বিতর্কিত ভূমিকা তহশিলদার অন্তরা দেবনাথের ঘুষ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট এবং খণ্ডনহীন ভিডিও ও অডিও ফুটেজ নিয়ে মনোহরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড জনাব সজিব মিয়ার অফিসে মুখোমুখি হয় অনুসন্ধানী টিম। কিন্তু একজন সরকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা বা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া দূরে থাক, ভিডিওচিত্র দেখে উল্টো অপরাধীর পক্ষে প্রকাশ্যে সাফাই গাইতে শুরু করেন এসিল্যান্ড সজিব মিয়া।

ভিডিও প্রমাণের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি উল্টো দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন— "আপনারা তহশিলদারকে টাকা দিলেন কেন? আমাকে জানাননি কেন?" এসিল্যান্ডের এই বিতর্কিত প্রশ্নের জবাবে ‘টিম পুনরুত্থান’-এর পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, মনোহরদীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নামজারি সংক্রান্ত ঘুস-দুর্নীতির বিষয়ে পূর্বে অন্তত ৬ জন ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট মৌখিক অভিযোগ এসিল্যান্ড সজিব মিয়াকে সরাসরি জানানো সত্ত্বেও তিনি রহস্যজনক কারণে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদাসীনতা ও নীরবতার কারণেই সরেজমিনে আইনি প্রমাণের স্বার্থে অনুসন্ধানী টিম মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছে।

লিখিত প্রশ্নেও নীরবতা, লেবুতলার পুরোনো রিপোর্ট নিয়ে গড়িমসি
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, মনোহরদী উপজেলা ভূমি প্রশাসনের এই জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর দৈনিক পুনরুত্থান-এ ‘লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দুর্নীতি ও অনিয়ম’ শিরোনামে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও উপজেলা ভূমি প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
সাম্প্রতিক অনিয়ম, ডিজিটাল ভিডিও প্রমাণ এবং এসিল্যান্ড অফিসের নামে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জবাব চেয়ে সজিব মিয়ার কাছে অফিশিয়াল রিসিভড কপির মাধ্যমে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেননি। সরকারি কর্মকর্তার এমন রহস্যজনক নীরবতা প্রশাসনিক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

হাতেনাতে ধরা পড়ে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা
ছদ্মবেশী অভিযানে ঘুষ বাণিজ্যের অকাট্য তথ্য হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এবং পেশাগত সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নিতে গেলে অভিযুক্ত তহশিলদার অন্তরা দেবনাথ প্রথমে নানা অসংলগ্ন অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের উপস্থিতি অনুধাবন করতে পেরে পরবর্তীতে তিনি নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে ‘টিম পুনরুত্থান’-এর সাথে অবৈধ অনৈতিক সমঝোতার অপচেষ্টা চালান।


জিরো টলারেন্স নীতি ভণ্ডুল, ডিসি ও দুদকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি বর্তমান সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেবা খাতে দুর্নীতি ও ঘুষের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করলেও মনোহরদীতে তা পুরোপুরি প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সরকারি দফতরে বসে প্রকাশ্যে জনগণের পকেট কাটার এমন কান্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নরসিংদীর সচেতন নাগরিক সমাজ। চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার অন্তরা দেবনাথ এবং এর সাথে জড়িত পুরো মনোহরদী ভূমি সেবা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগীয় বরখাস্ত এবং দুর্নীতি দমন আইন অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়েরের জন্য নরসিংদীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন