পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার মাঝেই নদীতে চলছে ইলিশ শিকারের উৎসব
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও নদীতে অবাধে ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে দিন-রাত জাল ফেলছেন জেলেরা।
কোথাও প্রকাশ্যে চলছে ইলিশ বেচাকেনা, আবার কোথাও ধরা পড়া মাছ ভাগ করে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের অভিযান ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে হাতেগোনা কয়েকটি নৌকা ছাড়া অধিকাংশ জেলে মাছ শিকারে ব্যস্ত। নদীর পাড়ে দাঁড়ালেই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা বোঝা যায়। পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবল না থাকলে মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপার বিভিন্ন নদ-নদীর একাধিক পয়েন্টে ইলিশ শিকার ও বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চরকাজল ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, চরশিবা লঞ্চঘাট ও বড় শিবা; চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরআগস্তি, জিমতলা, নোমোর স্লুইসগেট, আমড়াগাছিয়া, চরবাংলা খেয়াঘাট ও চরবাংলা; রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বদনাতলী ও পাতাবুনিয়া স্লুইসগেট; সদর ইউনিয়নের চরকারফারমা এবং পানপট্টি লঞ্চঘাট, বটতলা বাজার, বোয়ালিয়া স্লুইসগেট, পক্ষিয়া স্লুইসগেট, লোন্দা স্লুইসগেট ও গলাচিপা-পাটুয়া খেয়াঘাট উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া গলাচিপা পৌর এলাকার কাছের রামনাবাদ নদী, চিকনিকান্দির দয়াময়ী মন্দিরসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর পয়েন্ট, বদনাতলীর তেঁতুলিয়া নদীর পয়েন্ট এবং পানপট্টি লঞ্চঘাট ও বটতলা বাজারসংলগ্ন আগুনমুখা নদীর মোহনায় রাতের আঁধারে জাল ফেলার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, ‘বিকেলের সময়টা আমাদের একটু অরক্ষিত থাকে। বিকেলে অভিযান চালালে রাতে আবার অভিযান চালানো যায় না। রাতে অভিযান চালাব, এ কারণে বিকেলে নামা হয়নি। বিকেলটা আমাদের অরক্ষিত থেকে গেছে। আমাদের বাজেট সীমিত। এ কারণে সব জায়গা কভার করা কঠিন হয়ে যায়।’
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ‘১০০ জনের মধ্যে ১০ জন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে লড়াই করা যায়। কিন্তু ১০০ জনের মধ্যে যদি ৯০ জনই অপরাধ করে, তাহলে এটি ঠেকানো কঠিন। এসব রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শুধু থানা-পুলিশ বা আইন দিয়ে এগুলো সম্ভব নয়।’
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: