• ঢাকা
  • বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

মেয়েদের নিয়ে মাগুরায় নিহত যুবদল নেতার স্ত্রীর আর্তনাদ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৫ পিএম;
মেয়েদের নিয়ে মাগুরায় নিহত যুবদল নেতার স্ত্রীর আর্তনাদ

স্বামী ছাড়া সন্তান নিয়ে ক্যামনে বাঁচবো !
মেয়েদের নিয়ে মাগুরায় নিহত যুবদল নেতার স্ত্রীর আর্তনাদ

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

 

আমার স্বামীর হত্যাকারী আমাদেরও মারলোনা কেন? পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী  স্বামী ছাড়া আমি দুই মেয়েকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবো,  কি খাবো,  কি করবো?  কার কাছে যাবো,  কারে বোঝাবো আমার কষ্ট।  আর্তনাদ করে বুক চাপড়ে এমন কথা বলতে বলতে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী শারমিনা খাতুন রুমা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী  প্রাণের স্বামীর হত্যার খবর পেয়ে তার এমন আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছিল মাগুরা জেলা সদরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের আকাশ বাতাস। স্বামী স্ত্রীর সংসারে রযেছে ১১ বছরের মেয়ে সামিয়া খাতুন ও মুনতাহা খাতুন। 

 প্রতিদিনের মতো ঘটনারদিন  বুধবার ভোরে কর্মস্থলে গিয়েছিলেন শাকের হোসেন। মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে বসে কাজ করছিলেন তিনি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে থামেন কাউন্টারের সামনে। মোটরসাইকেলটি চালু রেখেই পেছনে বসা ব্যক্তি কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে সাকেরের মাথার পেছনে গুলি করেন। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। তবে সাইলেন্সার পাইপ বিহিন মোটরসাইকেলের বিকট শব্দের কারণে গুলির শব্দ আশপাশের কেউ বুঝতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কাউন্টারে ছিলেন এক নারী যাত্রী। গাড়ি আসতে দেরি হওয়ায় তিনি পাশের বাথরুমে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে কাউন্টারের ভেতরে শাকেরকে টেবিলে মাথা রেখে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তিনি স্ট্রোক করেছেন বলে ধারণা করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান জানান, স্বজনেরা সাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। প্রথমে স্ট্রোক হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরে মাথার পেছনে আঘাতের বিষয়টি সামনে আসে।

চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার পর স্বজনেরা লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরে যান। সেখানে গোসলের আয়োজনের সময় মাথার পেছন থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখেন তাঁরা। পরে ওই স্থানে বড় ক্ষত দেখতে পেয়ে মৃত্যুর বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হয়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

মাগুরা রয়েল কাউন্টারের মালিক বিপুল কুমার দাস বলেন, দুর্বৃত্তদের একজন মোটরসাইকেলটি চালু রেখেছিলেন। সাইলেন্সার পাইপ না থাকায় মোটরসাইকেল থেকে বিকট শব্দ হচ্ছিল। এ কারণে গুলির শব্দ আশপাশের লোকজনের কানে পৌঁছায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাকেরের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামী হারানোর শোকের পাশাপাশি দুই সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতায় এখন সাকেরের স্ত্রী শারমিন খাতুন রুমা। স্বামীকে হারিয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চালাবেন, তা ভেবে দিশেহারা তিনি।

তাঁদের বড় মেয়ে সামিহার বয়স ১১ বছর, ছোট মেয়ে মুনতাহার ৬ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি শাকেরের পরিবার।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, প্রথমে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকজনিত কারণে মৃত্যু শোনা যায়। পরে মাথায় ক্ষত দেখতে পাওয়ায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত চলছে।
তবে সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীর মৃত্যুতে দুই কন্যা সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চরম হতাশায় নিহতের পরিবার।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন