মাগুরায় বাস টার্মিনালে নিহত যুবদল নেতার মাথার খুলিতে বুলেট পাওয়া গেছে
বিশেষ প্রতিনিধি :
মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাকের হোসেনের (৩৯) ময়না তদন্তে তাঁর মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গুলির আঘাতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর, ২০২৬) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ‘রয়েল এক্সপ্রেস’ কাউন্টারে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনি কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার খায়রুল হাসান এবং চিকিৎসকদের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ময়না তদন্তের সময় শাকেরের মাথার খুলির পেছনের অংশ থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার দিকে কাউন্টারে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করার পর প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিনি স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। পরে বাড়িতে নিয়ে লাশ গোসলের প্রস্তুতির সময় মাথার পেছনে ক্ষত ও রক্ত দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সিসিটিভি ফুটেজের অডিওতে ঘটনার সময় দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুটি লোক মোটরসাইকেলে করে বাস টার্মিনালে আসে। একজন মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে রেখেছিল (যার কারণে বিকট শব্দে গুলির শব্দ ঢাকা পড়ে যায়) এবং অন্যজন কাউন্টারে ঢুকে শাকেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের পরিবার এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিত ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
যুবদল নেতার এই 'মৃত্যু রহস্য' উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিক, বাস মালিক সমিতি এবং বিএনপি-যুবদলের নেতা-কর্মীরা মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরীর আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি-ও (CID) কাজ করছে।
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: