স্বাস্থ্য খাতে টেন্ডার অনিয়মের অভিযোগ: অতিরিক্ত সচিব নাফরিজা শ্যামা প্রত্যাহার
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার অনিয়ম, সরকারি অর্থ ছাড় এবং কথিত ‘ডলার বাণিজ্য’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মিস নাফরিজা শ্যামাকে প্রত্যাহার করেছে সরকার।
গত ২ জুলাই ২০২৬ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য খাতের একটি বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন জেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ ও সংস্কার প্রকল্পে আসবাবপত্র সরবরাহের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেড-কে অধিকাংশ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ জুন পর্যন্ত আহ্বান করা ১২টি দরপত্রের মধ্যে ৮টিতে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল হাতিল। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি মাত্র একটি কাজের কার্যাদেশ দেয় এবং বাকি সাতটি কাজ ঝুলিয়ে রাখে। কোম্পানিটির দাবি, অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের চাপ সৃষ্টি করায় তারা তা প্রত্যাখ্যান করলে কার্যাদেশ আটকে রাখা হয়।
এ বিষয়ে হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের কোম্পানি সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশরাফুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে তলব করে ব্যাখ্যা চান। পরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আরেক বৈঠকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি। তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলেও অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করছে, প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বড় প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ এবং কথিত ‘ডলার বাণিজ্য’ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নাফরিজা শ্যামাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাঁর প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ক্রয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
(বিঃদ্রঃ: টেন্ডার অনিয়ম, অর্থ দাবি ও ‘ডলার বাণিজ্য’ সংক্রান্ত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আদালত বা সরকারের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।)
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: