অর্থ পাচারের অভিযোগে এফবিআইয়ের জালে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের পর নতুন বিতর্ক, এএফএর আর্থিক লেনদেন তদন্তে এফবিআই মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয় নিয়ে যখন বিশ্ব ফুটবলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক কার্যক্রম তদন্ত শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন (La Nacion)–এর এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ফক্স স্পোর্টস মেক্সিকো জানিয়েছে, এএফএর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন সংস্থাটি সম্ভাব্য অর্থপাচারের অভিযোগে তদন্তের আওতায় এসেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে এএফএ যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানান্তর করেছে এবং এসব লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান TourProdEnter LLC, যা বিদেশে এএফএর আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, তদন্তের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক থিয়েটার ব্যবসায়ী হাভিয়ের ফারোনি।
লা নাসিওনের দাবি, তাদের হাতে থাকা নথিপত্রে দেখা গেছে, ফারোনি এবং তার স্ত্রী এরিকা জিলেট যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খোলা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অন্তত কয়েকশো মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “গত কয়েক মাসে লা নাসিওনের হাতে আসা এবং ২০২৫ সালের শেষ ভাগ ও চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এরিকা জিলেট এবং সাবেক বুয়েনস আইরেস আইনপ্রণেতা হাভিয়ের ফারোনি পাঁচটি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে—সিটিব্যাংক, সিনোভাস, ব্যাংক অব আমেরিকা, জেপি মরগান ও পিএনসি ব্যাংকে থাকা হিসাবের মাধ্যমে অন্তত কয়েকশো মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছেন।”
আরও বলা হয়েছে, “TourProdEnter LLC এএফএর কাছ থেকে অন্তত ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় পরিচালনা করেছে। তবে লা নাসিওনের বিশ্লেষণ করা ব্যাংক নথি অনুযায়ী, এই অর্থের কেবল একটি অংশই এএফএর স্বাভাবিক পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া আরও ৫৭ মিলিয়ন ডলার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে, যার অর্থনৈতিক যৌক্তিকতার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নথিতে পাওয়া যায়নি।”
প্রতিবেদনের দাবি, এসব লেনদেনের মধ্যে কয়েক কোটি ডলার এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছেও পাঠানো হয়েছে, যারা কোনো শনাক্তযোগ্য সেবা প্রদান করে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রকদের কেউ কেউ সামাজিক কল্যাণ ভাতা গ্রহণ করতেন এবং আর্জেন্টিনার বারিলোচে বা বুয়েনস আইরেসে বসবাস করতেন।
এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েন। দুর্নীতির অভিযোগ, ঘরোয়া লিগে অজনপ্রিয় পরিবর্তন এবং বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে এএফএ।
৫৮ বছর বয়সী তাপিয়া বর্তমানে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সঙ্গে দেশটির ফুটবল ক্লাবগুলোর মালিকানা কাঠামো নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্বেও জড়িয়ে রয়েছেন। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে মিলেই সরকারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলা করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বুয়েনস আইরেসে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রীতি ম্যাচের আগে মাঠে সম্মাননা গ্রহণ করতে গেলে দর্শকদের একাংশের দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন তিনি।
উল্লেখ্য, এফবিআই বা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেনি। ফলে অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত নয়।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: