• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’: ট্রাইব্যুনালে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বিচার শুরু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪১ পিএম;
‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’: ট্রাইব্যুনালে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বিচার শুরু

বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহসহ চার জনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করে দেয়।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। তিনি বরিশাল-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্য আসামিরা হলেন বরিশালের সাবেক এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন।

আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসান উল্লাহ পলাতক; বাকি দুজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

অভিযোগ গঠনের সময় এ দিন কারাগারে থাকা দুই আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের অভিযোগ পড়ে শুনিয়ে বিচারক জানতে চান, তারা দোষ স্বীকার করবেন কি না। উত্তরে দুই আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।

আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।

এর আগে ১৪ মে আসামিদের অব্যাহতির আবেদনের শুনানিতে তাদের আইনজীবী আবুল হাসান দাবি করেন, যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে এর সঙ্গে তার মক্কেলরা জড়িত নন এবং ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ গল্পের মাধ্যমে তাদের আসামি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীও পলাতক আসামিদের পক্ষে অব্যাহতির আবেদন করেন।

পাল্টা যুক্তিতে প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ‘যথেষ্ট প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে।

২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।

প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হওয়ায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা করেন এবং তার ‘নির্দেশে’ তৎকালীন এসপি এহসান উল্লাহ তা বাস্তবায়ন করেন।

২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু ও কবিরকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর থানা পুলিশ। পরে এএসআই মাহাবুল ও জসিমকে দিয়ে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

গত ৩১ মার্চ এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “গাড়ি পোড়ানোর মামলায় টিপু ও কবিরকে গ্রেপ্তার করে প্রথমে ঢাকায় আনা হয় এবং সেখান থেকে‘ক্রসফায়ারের উদ্দেশ্যে বরিশালে নেওয়া হয়। রাত ২টার দিকে আগৈলঝাড়ার ভোদাল নামক স্থানে নিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।

“ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ নিজেরাই থানায় জিডি ও ময়নাতদন্ত করিয়েছিল। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা আছে। পুলিশের রেখে যাওয়া এই নথিপত্রই এখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, পিকআপ ভ্যানে পেট্রলবোমা হামলা মামলার আসামি হিসেবে ঢাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।”

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে ২০ ডিসেম্বর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয় সংস্থাটি। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

১৮ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির পর নির্দিষ্ট সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় ২৫ মার্চ হাসানাত আব্দুল্লাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পলাতক’ ঘোষণা করা হয়। এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় ১ এপ্রিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে হাসানাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তার আরেক ছেলে ও ভাই খোকন সেরনিয়াবাত আত্মগোপনে রয়েছেন।

গত বছর অক্টোবরে হাসানাত আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। নভেম্বরে তার বিরুদ্ধে বরিশালে বিএনপির সভায় হামলার অভিযোগেও মামলা হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন