• ঢাকা
  • বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড খানসামা


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১৮ এএম;
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড খানসামা

নুর-আমিন,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি এলাকা। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়া, অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক পিলারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে রাতভর অন্ধকারে চরম ভোগান্তিতে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (২৮ই এপ্রিল) দিবাগত রাতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তীব্র বাতাস ও বজ্রপাত পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে ঝড়ের তাণ্ডব। পরে বাতাস কিছুটা কমলেও দফায় দফায় বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে উপজেলার আলোকঝাড়ী, ভেড়ভেড়ী, খামারপাড়া ও আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের মরিয়ম বাজার, গোবিন্দপুর, হলদিপাড়া, টংগুয়া ও ভান্ডারদহসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষেতের ভুট্টা, আলু, আম ও লিচুসহ নানা ধরনের ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।একাধিক এলাকায় ঝড় শুরুর আগেই বিদ্যুৎ ছিল না। এতে এসএসসি পরীক্ষার্থী, অটোচালক, ভ্যানচালক ও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ এমন তীব্র ঝড়ের কারণে কোনো ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি তারা। অনেকেই পুরো সময় ঘরের ভেতরে আতঙ্কে অবস্থান করেন।

এদিকে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় ফসল নষ্ট হয়েছে।ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–১-এর খানসামা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার এ. এস. এম. রাকিবুল হাসান বলেন, বিদ্যুতের পিলারের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের লোকজন নিরলসভাবে কাজ করছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এদিকে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাত থেকে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর তিনটা পর্যন্ত দিনাজপুরে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫২ মিলিমিটার। এ সময় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

 

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন