লাভের আসায় চাষ করে এবারো ক্ষতির মুখে আলু চাষীরা
রাণীনগরে এমৌসুমে আবাদ কমেছে প্রায় ৪৭০হেক্টর
লাভের আসায় চাষ করে এবারো ক্ষতির মুখে আলু চাষীরা
মো: গোলাম মোরশেদ,রাণীনগর (নওগাঁ) :
নওগাঁর রাণীনগরে গত মৌসুমের ক্ষতি কাটাতে লাভের আসায় চাষ করে এবারও ক্ষতির মুখে পরেছেন আলু চাষীরা। আলুর এমন বাজার দর চলতে থাকলে আগামীতে আরো আবাদ কমে যাবে বলছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন,গত মৌসুমে আলুর বাজার দরে ধ্বস নামার কারনে এই মৌসুমে আবাদ কমেছে প্রায় ৪৭০হেক্টর জমিতে।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে,চলতি মৌসুমে উপজেলা জুরে মোট ১০৬০হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করেছেন কৃষকরা। ভাল ফলন পাবার আসায় কার্ডিলাল,ডায়মন্ড,রোমানা,এস্টারিক্স,ক্যারেজ,কুফড়ি সুন্দরী,লাল পাকড়ি ও সাদা পাকড়ি জাতের আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। আলু চাষে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং তেমন রোগ বালাই না থাকায় উপজেলার সব এলাকাতেই আলুর ভাল ফলন হচ্ছে। এই মৌসুমে আলুর উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ২২হাজার ৮৮৫মেট্রিক টন। কিন্তু চাষে আলুর ভাল ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আবারো ক্ষতির মুখে পরছেন কৃষকরা।
উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক শ্রী চন্দ্র দাস জানান,গত বছর সাড়ে ৫বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। কিন্তু আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মোটা অংকের লোকসান হয়েছিল। তাই এবছর পৌনে তিন বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি বলছেন,প্রতি বিঘা জমিতে সাদা পাকড়ি জাতের আলু চাষ করতে হাল চাষ থেকে শুরু করে জমি থেকে আলু ঘরে তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি প্রায় ২০-২৫হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে আলুর ফলন হয়েছে ৫০-৫৫মন পর্যন্ত। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি মন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০টাকা পর্যন্ত। ফলে লাভের পরিবর্তে আবারো ক্ষতির মুখে পরেছেন তিনি। আবার আলু তুলে বোরো ধান রোপন করলে ওই জমিতে ধানের ফলন অন্যান্য জমির তুলনায় অনেক কম হয়। ফলে ধানেও ক্ষতির মুখে পরতে হবে। তাই কৃষকদের বাঁচাতে আলুর ন্যায্য দর নির্ধারনের দাবি জানান তিনি।
উপজেলার কালীগ্রাম কসবাপাড়া গ্রামের কৃষক ফিরোজ হোসেন বলেন,তিনি এবার চার বিঘা জমিতে কার্ডিলাল জাতের আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৭০মন হারে ফলন হচ্ছে। কিন্তু কার্ডিলাল আলু বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩২০টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০টাকা মন পর্যন্ত। এতে লাভ না হলেও খুব বেশি লোকসান হবেনা।
উপজেলায় ধান ও আলুর মোকাম খ্যাত আবাদপুকুর হাটে বুধবার আলু বিক্রি করতে আসা কৃষক জিয়ারুল ইসলাম বলেন.গত রোববার হাটে এসে সাদা পাকড়ি আলু ২৮০-৩১০টাকা মন বিক্রি করেছি। তবে আজকে (বুধবার) সেই আলু প্রায় ৪০০-৪৫০টাকা প্রতি মন পর্যন্ত বিক্রি করেছি। তিনি বলেন কৃষক যদি আলুর ন্যায্য দাম না পায় তাহলে আগামী মৌসুমে আলুর আবাদ না করে অন্য কোন সবজির আবাদে ঝুঁকে পরবেন বলে জানান তিনি।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন,আলুর দাম না পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৪৭০হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ কমে গেছে। এবারও যদি কৃষকরা লোকসানে পরেন তবে আগামী মৌসুমে কৃষকরা আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন।
মো: গোলাম মোরশেদ
দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান ডেস্ক
- বিষয়:
- লাভের* আসায়,চাষ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: