• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

উন্নয়নের আড়ালে ৩৬ লাখ টাকার ‘কমিশন বাণিজ্য’: অভিযোগের তীর মনোহরদীর ইউএনও’র দিকে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৪৪ এএম;
উন্নয়নের আড়ালে ৩৬ লাখ টাকার ‘কমিশন বাণিজ্য’: অভিযোগের তীর মনোহরদীর ইউএনও’র দিকে

 নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাইমিন আল জিহানের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড় করতে বিশেষ শতাংশ হারে কমিশন আদায়, বিলাসবহুল আপ্যায়ন এবং সাধারণ জনগণের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, নরসিংদীর মনোহরদী বাইপাস সড়কের ক্রমেই থমকে থাকা কাজ এবং ঠিকাদারদের বিল প্রদানের নেপথ্যে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

বিল ছাড়ে ৩% স্পীডমানি ছাড়া ফাইল সই করতে নারাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাইমিন আল জিহান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বিল আটকে রাখার পর গত এপ্রিল মাসের শুরুতে মনোহরদী পৌরসভার চলমান কাজের বিপরীতে ১২ কোটি টাকার চেক প্রদান করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল অংকের বিল ছাড় করার পূর্বশর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ শতাংশ হারে মোট ৩৬ লাখ টাকা কমিশন কেটে রেখেছেন অভিযুক্ত ইউএনও মুহাইমিন আল জিহান। ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর পরই প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে রাজকীয় খানাপিনা। 

স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে দাপ্তরিক প্রয়োজনে আসা সাধারণ নাগরিকদের আপ্যায়নে কপালে এক কাপ চাও জোটে না, সেখানে দুর্নীতির টাকায় দামী সন্দেশ, স্যান্ডউইচ, কেক ও মিষ্টির মহোৎসব চলছে। বাইপাস সড়কের কাজের দীর্ঘসূত্রতা ও জনস্বার্থে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়কের কাজ কেন মাসের পর মাস ঝুলে ছিল। চলতি বছরের এপ্রিলে বিল প্রদানের পর প্রশাসনের যে তৎপরতা দেখা গেছে, তার পেছনে জনস্বার্থের চেয়ে এই '৩৬ লাখ টাকা'র কমিশন বাণিজ্যই তাহলে কি বড় ছিল? জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘূরপাক খাচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ পদে বসে এভাবে সরাসরি কমিশন আদায় কি সরকারি বিধিমালার অন্তর্ভুক্ত? নিশ্চয় নয়। 

প্রশ্ন হচ্ছে তাহলে কেন এই কমিশন বাণিজ্য। সাধারণ মানুষ জানান, এর হিসাব চায় পৌরবাসী। তারা জানান হিসেবে না দিলে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিবেন পৌর এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া জনগণ। এদিকে পৌরসভার গত ২ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত টাকা কোথায়, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাউজিং বিলসহ অন্যান্য বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে 'অসহযোগ' আন্দোলনের আভাস দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী এনামুল হক আল আমীন জানান তার হাতে প্রমাণ আছে কমিশন বাণিজ্যের। দৈনিক পুনরুত্থান টিমের কাছে তিনি প্রমানের কিছু ভিডিও চিত্রও তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে, ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ শতাংশ কমিশন কাটার স্বপক্ষে অকাঠ্য তথ্য-প্রমাণ ও অডিও-ভিডিও বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে। এই দুর্নীতির মহোৎসব বন্ধ না হলে এবং দ্রুত স্বচ্ছ অডিট করা না হলে সামনে কঠোর আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।  
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ: একটি জনপদের উন্নয়নের অক্সিজেন হলো স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতা কিন্তু যখন রক্ষকই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে উন্নয়নের ১২ কোটি টাকা থেকে ৩৬ লাখ টাকা ‘হাপিস’ করে দেন, তখন সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। 'মনোহরদীর সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ও দাবি উঠেছে, যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কি এই ‘কমিশন রাজত্ব’ বন্ধে এবং অভিযুক্ত ইউএনও-র বিরুদ্ধে দ্রুত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেবে?' বিষয়টি নিয়ে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাইমিন আল জিহানের বক্তব্য নিতে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনটি কেটে দেন। এদিকে নরসিংদীর জেলা প্রশাসককে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ লিখিত অভিযোগ করলে আমরা তদন্ত করে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

দৈনিক পুনরুত্থান / মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন