• ঢাকা
  • সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, মানসিক যন্ত্রণায় প্রাণ দিলেন ২ বোন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১৪ পিএম;
ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, মানসিক যন্ত্রণায় প্রাণ দিলেন ২ বোন

ভারতের রাজস্থানের যোধপুরে পুলিশের চরম নিষ্ক্রিয়তা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা গণধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়ে দুই বোনের আত্মহত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত মার্চ মাসে বড় বোনের আত্মহত্যার পর, সম্প্রতি তার ছোট বোনও বিচার না পেয়ে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর গাফিলতি এবং অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনতা। 

চার বছর ধরে ব্ল্যাকমেইল ও প্রথম আত্মহত্যা    

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত প্রায় চার বছর আগে। স্থানীয় একটি 'ই-মিত্র' সার্ভিস সেন্টারের অপারেটর মহিপাল গোপনে বড় বোনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে। এরপর সেই ভিডিওর সূত্র ধরে মহিপাল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘ চার বছর ধরে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে এবং সামাজিক মর্যাদার ভয় দেখিয়ে লাগাতার অর্থ আদায় করতে থাকে।

অসহ্য মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ২০ মার্চ বড় বোন আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার পর গত ১১ এপ্রিল নিহতের ছোট বোন পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআরে মহিপাল, শিবরাজ, গোপাল, বিজারাম, দীনেশ, মনোজ এবং পুখরাজসহ মোট আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অভিযোগকারী বোন আগেই পুলিশকে সতর্ক করেছিলেন যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তিনিও আত্মহননের পথ বেছে নেবেন।

বিচারহীনতা ও ছোট বোনের ওপর নির্যাতন

বড় বোনের মৃত্যুর পর এফআইআর দায়ের হলেও গত এক মাসে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান বা সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্টো বড় বোনের মৃত্যুর পর অভিযুক্তরা ছোট বোনকে টার্গেট করে। বড় বোনের সেই ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ছোট বোনকেও ধর্ষণ করা শুরু করে তারা।

নিহত তরুণী মৃত্যুর আগে অভিযোগ করেছিলেন, মামলা করার পরও অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছিল এবং অহংকার করে বলছিল যে পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারবে না। গত শুক্রবার (১৫ মে) নিজের আকুতি প্রশাসনের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে ওই তরুণী একটি পানির ট্যাংকের ওপর উঠে পড়েন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানান। পরবর্তীতে তিনি বিষপান করেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন