আগাম ঘোষণা দিয়ে অপরাধী ধরার সুযোগ নেই: চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ
আগাম ঘোষণা দিয়ে বহু কাজ করা গেলেও অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
এক প্রশ্নে তিনি বলেছেন, “আমরা আসলে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। এগুলো আগাম ঘোষণা দিয়ে তো আসলে করা যায় না। আগাম ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন করা যায় বা আগাম ঘোষণা দিয়ে অনেক কাজকর্ম করা যায়।
“কিন্তু আগাম ঘোষণা দিয়ে অপরাধী ধরার সুযোগ নেই। তাহলে তো আরো জেনে যাবে তারা—আমাদের প্লানগুলো। আমরা চাই না যে, আমাদের প্লানগুলো জেনে যাক। কিন্তু এটা ধরে রাখেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা পুলিশ আমরা একেবারে নিবিচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছি।”
রাউজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। পটিয়ায় এক অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার বিষয়ে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসপির কাছে ওই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল।
এক সাংবাদিক জানতে চান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রামে কিন্তু নির্বাচন লাগে না। এখানে উত্তর, দক্ষিণ, মধ্যভাগ, পশ্চিমভাগ—এরকম অনেকগুলো জায়গা আছে। এসব আলাদা এলাকাভিত্তিক কিছু অপরাধী চক্র আছে। এসব ব্যাপারে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। আরো তথ্য আমরা জোগাড় করছি।
“তারা যেন এমন কিছু না করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়। এটা কোনোভাবেই আমরা বরদাশত করব না। যারা যারা এই তৎপরতার সাথে জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।”
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার অভিযানে পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা থেকে অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ বলেন, “পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের একেবারে প্রত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন সময় মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় একটু নির্বিঘ্নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।”
শুক্রবারের অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ৫৪ বছর বয়সি দেলোয়ার হোসেন এবং ৩৩ বছর বয়সি মহসিন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদের মধ্যে দেলোয়ার হোসেন কেলিশহর ইউনিয়নের ইন্নারপাড়া গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার ছেলে। আর মহসিন একই গ্রামের নুরে আলম পুচুমের ছেলে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেলোয়ারের বসতঘরের খাটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি ধামা, একটি লোহা কাটার এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ইউনিয়নের ছাতিভাঙা এলাকায় আফছারের বাগান এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, “চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে ছোট ছোট অনেক বাহিনী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকল রকমের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী অপরাধ করে পার পাবে না; এটা নিশ্চয়তা দিতে পারি।
“এটা সূচনা। ভবিষ্যতে আরো বড় অভিযান পরিচালনা করব। যারা এ ধরনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এদের কাছে আরো বিভিন্ন রকম আগ্নেয়াস্ত্র আছে, এটা আমরা জানি। ক্লোজ মনিটরিং আছে, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক পুনরুত্থান /
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
আপনার মতামত লিখুন: