• ঢাকা
  • সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

বাউফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর এখন গরুর গোয়ালঘর, ক্ষোভ ও প্রশ্ন


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪২ পিএম;
বাউফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর এখন গরুর গোয়ালঘর, ক্ষোভ ও প্রশ্ন

লিটু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

 

পটুয়াখালীর বাউফলে দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে সরকার কর্তৃক নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন গবাদি পশুর গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বসবাস না করায় অধিকাংশ ঘরই এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। 
কোথাও রাখা হচ্ছে গবাদি পশু, আবার কোথাও রাখা হচ্ছে খড়কুটো। এতে একদিকে যেমন সরকারি অর্থে নির্মিত মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য নিয়েই নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ছত্রকান্দা এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের দরজা-জানালা তালাবদ্ধ রয়েছে। কোনো কোনো ঘরের জানালা খড়কুটো দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় অনেক ঘরের দরজা-জানালাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নষ্ট হতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছত্রকান্দা আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ২২টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ২১টি ঘরেই বর্তমানে কেউ বসবাস করছেন না। কাগজে-কলমে একটি ঘরে একজন উপকারভোগীর থাকার কথা থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শনে তাকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, আব্বাস প্যাদা, মকবুল প্যাদা, আব্দুর রব, ফোরকান ও ফাতেমা প্যাদাসহ প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি প্রকল্পের ঘরগুলো নিজেদের দখলে রেখেছেন। তাদের বাধার কারণে সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে সাহস পায় না। ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘরগুলো জবরদখল করে রাখার অভিযোগ করেন তিনি।

নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘ঘরগুলোতে গরু-ছাগল ও খড়কুটো রাখায় চারপাশ নোংরা হয়ে আছে। যাদের জন্য সরকার এই ঘরগুলো নির্মাণ করে দিয়েছে, তারা এখানে থাকেন না। এভাবে চলতে থাকলে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্বাস প্যাদা ও মকবুল প্যাদা বলেন, ‘যাদের নামে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউই এখানে থাকেন না। সরকারি তালা ভেঙে ঘরগুলোতে একসময় অসামাজিক কার্যকলাপ চলত। এলাকার পরিবেশ রক্ষা করতেই আমরা নিজেদের উদ্যোগে চারটি ঘরে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।’

তারা আরও দাবি করেন, ঘরগুলোতে কোনো গরু রাখা হয়নি, কেবল কিছু খড়কুটো রাখা হয়েছে। প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি কখনো এখানে আসেন, তবে ঘরগুলো পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।


পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলু বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দের জন্য নিয়ম অনুযায়ী অনেকেই আবেদন করেন। তবে বরাদ্দ পাওয়া ঘর কোনোভাবেই বেচাকেনা বা হাতবদল করা যাবে না। যেসব ঘর খালি পড়ে রয়েছে বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে,
 সেগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে বর্তমান বরাদ্দ বাতিল করে নতুন এবং প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র উপকারভোগীদের মাঝে এসব ঘর পুনরায় বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন