• ঢাকা
  • সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. অপরাধ

দোকানঘর ছাড়াকে কেন্দ্র করে কালাইয়ায় সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টা দাবি


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৩৫ পিএম;
দোকানঘর ছাড়াকে কেন্দ্র করে কালাইয়ায় সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টা দাবি

লিটু পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের বড় পুকুরের দক্ষিণ পাশে দোকানঘর ভাড়া ও খালি করাকে কেন্দ্র করে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ভাড়াটিয়া সাগর দাসের দেওয়া সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ দাবি করে তা প্রতিবাদ জানিয়েছেন দোকান মালিক মোহাম্মদ নাইম হোসেন।

​সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কালাইয়া বন্দরে নিজ দোকানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাইম হোসেন বলেন, জে.এল. নং-১২৪, খতিয়ানভুক্ত ৬১৮ নম্বর দাগের এক শতাংশ জমিতে নির্মিত দোকানটি চার বছরের চুক্তিতে সাগর দাসের বাবা রাধেশ্যাম দাসকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। চুক্তির শর্তানুযায়ী, মালিকের প্রয়োজনে তিন মাস আগে জানালে ঘর ছেড়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

​নাইম হোসেন দাবি করেন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের মাঘ মাস থেকেই তিনি ঘরটি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ করে আসছিলেন। তবে রাধেশ্যাম দাস ও তার দুই ছেলে সাগর দাস ও হৃদয় দাস ঘর ছাড়তে সম্মত হননি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি বাউফল থানায় অভিযোগ করেন।
​তিনি জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর থানায় নির্ধারিত সালিশ বৈঠকে ভাড়াটিয়া অনুপস্থিত থাকেন। পরে থানার পরামর্শে ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে দোকান খালি করার নোটিশ দিলে তা রাধেশ্যাম দাস স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন। নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দোকান খুলে মালামাল গণনা করে তালিকা করা হয়। পরবর্তীতে মালামালগুলো গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার বাড়িতে পাঠানো হলে তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। বর্তমানে সেই মালামাল প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের জিম্মায় থাকায় ‘মালামাল লুটপাট’-এর অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

​সংবাদ সম্মেলনে নাইম আরও স্পষ্ট করেন যে, ঘটনার সময় বাউফল থানার এসআই মো. মফিজুল উপস্থিত ছিলেন না এবং ওসির সাথে তার ‘ক্লাসমেট’ হওয়ার দাবিটিও অসত্য। সাগর দাসের সংবাদ সম্মেলনে তাকে ও তার পরিবারকে ‘সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ও সত্য তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।
​এ বিষয়ে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ জানান, ‘‘দোকানে কোনো লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। আমিসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, চৌকিদার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে মালামালের তালিকা করা হয়েছে এবং সেই তালিকায় উপস্থিত সবার স্বাক্ষর রয়েছে।’’

​বাউফল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি, তবে সাগর দাস ও তার বাবা কোনো সহযোগিতা করেননি। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মালামাল সরানো হয়েছে, সেখানে পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।’’

​অন্যদিকে, ভাড়াটিয়া সাগর দাস এ বিষয়ে সংক্ষেপে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘‘আমি এই ঘটনায় আইনের দ্বারস্থ হব।’’

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন