• ঢাকা
  • সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. দূর্ঘটনা

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্ন, ঢাকায় অপারেশনের পর যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৪ পিএম;
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্ন, ঢাকায় অপারেশনের পর যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু

লিটু, স্টাফ রিপোর্টার:

 

বরিশালের গৌরনদীতে নারী থেকে পুরুষ রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষায় হরমোন চিকিৎসার পাশাপাশি স্তন অপারেশন করিয়েছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক যুবতী। 
ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার গ্রিন রোডের ‘ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ 
তার এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছিল। মৃত রোজি আক্তার লিজা উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিজা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে পুরুষে রূপান্তর হওয়ার অংশ হিসেবে স্তন অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। 
এ জন্য তার মা-বাবা ও বোন মিলে তাকে দেড় লাখ টাকা দেন। সেই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকার ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, 
হাসপাতালে ভর্তির সময় তার নাম পরিবর্তন করে ‘সরফরাজ’ ব্যবহার করা হয়েছিল।

মৃত লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে জোর করে দুবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোথাও সে সংসার করেনি। ছেলেদের মতো জীবনযাপন করা কিংবা স্বাভাবিক সংসার করার কোনো
 মনমানসিকতাই তার ছিল না।’

এদিকে, ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতাল থেকে ইস্যু করা মৃত্যুসনদপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সনদপত্রে লিজার নাম ‘সরফরাজ’
 উল্লেখ করে তাকে পুরুষ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মৃত্যুসনদে দেওয়া হাসপাতালের নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ‘লিমন’ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের অ্যাডমিন হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি মহাব্যবস্থাপকের (জিএম) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরবর্তীতে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান এবং রোগীর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের সঙ্গে
 যোগাযোগের কথা বলেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও
 তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

দৈনিক পুনরুত্থান / পুনরুত্থান

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন