• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertise your products here

  1. জাতীয়

নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে মামলা, চার শিক্ষার্থী কারাগারে


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০:৪২ পিএম;
নবীনবরণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে মামলা, চার শিক্ষার্থী কারাগারে

হাফিজ খান, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিজাউল কবির বাদী হয়ে আমতলী থানায় মামলাটি করেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে গ্রেপ্তার চার শিক্ষার্থীকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মহিষকাটা এলাকার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও আনন্দ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দীন ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব তুহিন মৃধা, বরগুনা দ্বিতীয় জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এবং আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি মো. মাহবুবুল আলমসহ অন্য অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় জালাল উদ্দীন ফকির ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী মুহিদুল ইসলাম সুজাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম, জালাল উদ্দীন ফকিরের ছেলে ফাহাদ ফকির এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে।

একই দিন জুমার নামাজের পর চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. ইসরাফিল নামে আরও দুই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, চার শিক্ষার্থীকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে জালাল উদ্দীন ফকিরের উপস্থিতিতে তাঁদের নির্যাতন করা হয়েছে বলে আসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে রাত ৯টার দিকে চার শিক্ষার্থীকে থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

তবে মামলার এজাহারে ঘটনার ভিন্ন বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালিবাড়ী এলাকার ইউনুস আলী খাঁন ডিগ্রি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে চলে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাদী রিজাউল কবিরের অভিযোগ, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে বিএনপির কর্মী বলে গালাগাল করেন।

একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার কথা বলে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ৩২ জনের মধ্যে বরগুনা জেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক আল আমিনও রয়েছেন।

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুবকর জানান, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ, মুহিদুল ইসলাম সুজা, সাইফুল কাজী ও মো. ইসরাফিলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

দৈনিক পুনরুত্থান /

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন