• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Advertise your products here

  1. অপরাধ

পঞ্চগড়ে উপজেলা কর্মকর্তার ২৭০ কোটির সম্পদ


দৈনিক পুনরুত্থান ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৯ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৫৭ পিএম;
পঞ্চগড়ে উপজেলা কর্মকর্তার ২৭০ কোটির সম্পদ

মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় 

 

সরকারি চাকুরে নয়, যেন কুবেরের ধন! পঞ্চগড়ে উপজেলা কর্মকর্তার ২৭০ কোটির সম্পদ

 

সরকারি সামান্য বেতনের একজন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা হয়েও আলাদিনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার সম্পদের খতিয়ান দেখে রীতিমতো স্তব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল। খোদ ওই কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেছেন, তার মালিকানায় থাকা কেবল জমির বাজারমূল্যই প্রায় ২৭০ কোটি টাকা।

 সম্প্রতি জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ওয়াহিদুজ্জামান তার সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা কোনো রূপকথাকেও হার মানায়। তিনি জানান, তার পরিবারের অধীনে রয়েছে মোট ৭৫ বিঘা জমি। এই সম্পদের বণ্টনও তিনি সাজিয়েছেন সুনিপুণভাবে, নিজের নামে ২৫ বিঘা, স্ত্রীর ও সন্তানের নামে আরও ২৫ বিঘা করে মোট ৭৫ বিঘা।

তার দেওয়া তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারদরে প্রতি কাঠা জমির মূল্য ১৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে ১৫০০ কাঠা জমির দাম দাঁড়ায় ২৭০ কোটি টাকা। কেবল জমিই নয়, রাজধানীর আভিজাত্যের প্রতীক গুলশানেও তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে বলে তিনি দম্ভের সাথে সাংবাদিকদের জানান।

আয়ের উৎস নিয়ে জনমনে তোলপাড় একজন সরকারি কর্মকর্তার সীমিত বেতন ও ভাতার আয়ে কীভাবে এই আকাশচুম্বী সম্পদ অর্জন সম্ভব, তা নিয়ে পঞ্চগড়জুড়ে বইছে আলোচনার ঝড়। সচেতন নাগরিকদের মতে, জমি আর গুলশানের বাড়ির বাইরেও তার ব্যাংক ব্যালেন্স, এফডিআর এবং স্বর্ণালংকারের হিসাব ধরলে সম্পদের পরিমাণ  কোথা পৌছাবে তা অনুমেয় ।

 "সরকারি চাকরি করে কয়েকশ কোটি টাকার মালিক হওয়া স্বাভাবিক মস্তিষ্কে অসম্ভব। এটি কি দুর্নীতির ফসল নাকি জাদুর ছোঁয়া, তা জাতির জানা প্রয়োজন।" বলে মনে করেন সচেতন মহল।

 অভিযোগ রয়েছে, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে তাকে অন্যত্র বদলির আদেশ দেওয়া হলেও অজ্ঞাত এক 'অদৃশ্য শক্তির' ইশারায় তিনি এখনো পঞ্চগড়েই রয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি বোদা উপজেলা ছাড়াও দেবীগঞ্জ ও জেলা অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

একজন উপজেলা কর্মকর্তার এমন রাজকীয় জীবন ও অঢেল সম্পদের রহস্য উন্মোচনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন জেলার মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রকৃতপক্ষে তার আয়ের উৎস কী? স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই এই 'ধনকুবের' কর্মকর্তার প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হবে বলে আশা করেন তারা।

দৈনিক পুনরুত্থান / মাহামুদুল ইসলাম জয়, 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন